প্রকাশিত : ০৭ নভেম্বর, ২০২৫ ১৯:২৮ (বৃহস্পতিবার)
কার্তিক পূর্ণিমার ভোরে শেষ হলো শতাব্দীপ্রাচীন মহারাসলীলা

ছবি: মণিপুরী সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব মহারাসলীলা।

নৃত্য, গান ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে শেষ হয়েছে মণিপুরী সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব মহারাসলীলা।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) ভোরে এই বর্ণিল আয়োজনের পরিসমাপ্তি ঘটে। কার্তিক পূর্ণিমা তিথিতে আয়োজিত এ রাসনৃত্যের উৎসব উপভোগ করতে দেশ-বিদেশ থেকে ছুটে আসেন হাজারো মানুষ।

গত বুধবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকেই কমলগঞ্জ উপজেলার মণিপুরী অধ্যুষিত বিভিন্ন পাড়া প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে ওঠে। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা পেশার মানুষের পদচারণায় উৎসবমুখর হয়ে ওঠে এলাকা। ভোরের আলো ফুটতেই আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয় এই বছরের মহারাসলীলা উৎসব।

উপজেলার মাধবপুর জোড়ামণ্ডপ মাঠে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সম্প্রদায় এবং আদমপুরের মণিপুরী কালচারাল কমপ্লেক্স মাঠে মী-তৈ মণিপুরী সম্প্রদায় পৃথকভাবে আয়োজন করে মহারাসোৎসবের অনুষ্ঠান।

রাস উৎসবকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বসে রকমারি পণ্যের বিশাল মেলা, যেখানে দেশি-বিদেশি পর্যটক ও দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

মাধবপুর (শিববাজার) জোড়ামণ্ডপ মাঠে মণিপুরী মহারাসলীলা সেবা সংঘের উদ্যোগে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীদের ১৮৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে রাতভর চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অপরদিকে আদমপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত হয় বিষ্ণুপ্রিয়া ও মী-তৈ মণিপুরীদের ৪০তম আলাদা রাসোৎসব।

মণিপুরী মহারাসলীলা সেবা সংঘের সাধারণ সম্পাদক শ্যাম সিংহ বলেন, ‘মাধবপুর জোড়ামণ্ডপ রাসোৎসব এ অঞ্চলের অন্যতম ব্যতিক্রমী আয়োজন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এখানে হাজারো মানুষের মিলন ঘটে। বর্ণময় ও শিল্পসমৃদ্ধ এই রাস উৎসব মণিপুরী সংস্কৃতির মহা উৎসবে পরিণত হয়।’

তিনি আরও জানান, ‘মণিপুরীদের রাসলীলার নানা ধরন রয়েছে- নিত্যরাস, কুঞ্জরাস, বসন্তরাস, মহারাস, বেনিরাস বা দিবারাস। শারদীয় পূর্ণিমায় আয়োজিত হওয়ায় একে আমরা পূর্ণিমারাসও বলে থাকি। প্রায় ১৫-২০ দিন ধরে আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি, আর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন ছিল।’