প্রকাশিত : ০৯ নভেম্বর, ২০২৫ ১৩:৫৮ (সোমবার)
দক্ষিণ সুরমায় আওয়ামী লীগ নেতা হত্যা মামলায় ছেলেকে ফের রিমান্ডে নিতে চায় পুলিশ

ফাইল ছবি

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রাজ্জাক হত্যা মামলায় নিশ্চিত তথ্য উদ্ঘাটনে ছেলে আসাদ আহমদকে ফের রিমান্ডে নিতে চায় পুলিশ।

এর আগে তিন দিনের রিমান্ডে থাকাকালীন হত্যা মামলার আসামি নিহতের ছেলে আসাদ আহমদ পুলিশের কাছে একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দিয়েছেন।

পুলিশের কাছে তার দেওয়া তথ্য সন্দেহজনক হওয়ায় পুনরায় তদন্ত কর্মকর্তা সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতের বিচারক শরিফুল হকের আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছেন। 

সোমবার (১০ নভেম্বর) আদালতে রিমান্ড শুনানির কথা রয়েছে বলে আদালত সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এর আগে, মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ তাকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়। পুলিশের দায়ের করা হত্যা মামলায় নিহত রাজ্জাকের ছেলে আসাদ আহমদকে গ্রেফতার দেখিয়ে শনিবার (১ নভেম্বর) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এ সময় আসাদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।

সোমবার (৩ নভেম্বর) মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতে রিমান্ড শুনানির পর আদালত আসাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধারের সময় পেট, বুক ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছুরিকাঘাতের গভীর চিহ্ন পাওয়া যায়। একই সঙ্গে লাশের পাশ থেকে ২২ ইঞ্চি লম্বা একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত আবদুর রাজ্জাকের এক ছেলে ও এক মেয়ে। দুজনেরই বিয়ে হয়ে গেছে। সন্তানদের মধ্যে মাস দুই আগে সম্পত্তি ভাগ-বাঁটোয়ারাও করে দিয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকে শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং চিকিৎসার জন্য ভারতেও গিয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে গত বছরের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে একটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার। মামলা থাকলেও তিনি নিজ বাড়িতেই অবস্থান করতেন।

বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে লাশ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত নিহত ব্যক্তির বাড়িতে কাউকে ঢুকতে বা বের হতে দেখা যায়নি। এর মধ্যে শুধু ওই বাড়ির গৃহকর্মী সকাল আটটার দিকে বাড়িতে প্রবেশ করেন। তিনি বাড়িতে গিয়ে আবদুর রাজ্জাককে তার কক্ষে পাননি। একপর্যায়ে সিঁড়ির ঘরে লাশটি দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। এ সময় সিঁড়ির দরজা তালাবদ্ধ ছিল এবং সিঁড়ির চাবি আবদুর রাজ্জাকের কাছেই ছিল।

এদিকে, নিহত আবদুর রাজ্জাক হত্যার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ মামলা না করায় দক্ষিণ সুরমা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ারুল কামাল হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে পরিবারের কয়েকজন সদস্যের নাম মামলার বিবরণে সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।