ছবি: সংগৃহিত
দক্ষিণ ভারতের মালয়ালম সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে প্রথমবারের মতো নারী-নেতৃত্বাধীন সুপারহিরো গল্প উপস্থাপন করেছে ‘লোকাহ চ্যাপ্টার ওয়ান: চন্দ্রা’। পরিচালক ডোমিনিক অরুণ নারী চরিত্রকে কেন্দ্র করে যে সিনেম্যাটিক ইউনিভার্স নির্মাণ করেছেন, তা গল্প, ভিজ্যুয়াল ও অভিনয়ের দিক থেকে প্রশংসিত হচ্ছে।
ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র চন্দ্রা, যাকে অভিনয় করেছেন কল্যাণী প্রিয়দর্শন, সাধারণ একজন নারী মনে হলেও তার মধ্যে রয়েছে রহস্যময় শক্তি। শহরের অন্ধকার গলিতে একা দাঁড়িয়ে তিনি দুর্ধর্ষ মারপিটে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করেন। ছবির শুরু থেকেই বোঝা যায়- চন্দ্রা কোনও সাধারণ নারী নয়।
‘লোকাহ’-এর জগৎ কেবল সুপারহিরো গল্প নয়, বরং সমৃদ্ধ ইউনিভার্স তৈরির নমুনা। দৃশ্যে লাল রঙের ব্যবহার চন্দ্রার স্বাক্ষর এবং তার আত্মপরিচয়ের প্রতীক হিসেবে ফুটে উঠেছে।
ছবির পটভূমি বেঙ্গালুরু, যেখানে মালয়ালি সুপারহিরো, কন্নড় অপরাধ চক্র ও তামিল পুলিশ এক শহরে মিলেমিশে গল্পের জাল বুনেছে। ছবিতে চন্দ্রার অতীত ধীরে ধীরে প্রকাশিত হয়, যেখানে কেরালার কিংবদন্তি ও লোককথার সঙ্গে মিথ-বাস্তবের মিশ্রণ লক্ষ্য করা যায়।
চন্দ্রার পার্শ্বচরিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে মজার দুই প্রতিবেশী সানি (নাসলেন) ও ভেনু (চন্দু সালিমকুমার), যারা ছবির হালকা মুহূর্ত তৈরি করে।
অন্যদিকে নারীবিদ্বেষী পুলিশ অফিসার নাচিয়াপ্পা গৌড়া (স্যান্ডি মাস্টার) চন্দ্রার বিপরীতে কার্যকর প্রতিপক্ষের ভূমিকায় থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে চরিত্রটি যথেষ্ট উত্তেজনা তৈরি করতে পারেনি।
ছবির অ্যাকশন, কোরিওগ্রাফি ও মিউজিক জ্যাক্স বিজয় ও ইয়ানিক বেন পরিচালিত, যা প্রথমার্ধে সিনেমার উত্তেজনা ধরে রাখে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে কিছু গতি কমে যাওয়া এবং পার্শ্বচরিত্রের অপূর্ণতা লক্ষ্য করা যায়।
মালয়ালম সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে নারীকে কেন্দ্র করে সুপারহিরো গল্প বলার এই সাহস প্রশংসনীয়।
‘লোকাহ’ কেবল চন্দ্রার লড়াই নয়, বরং একটি নতুন জগৎ, সমৃদ্ধ চরিত্র ও ভিজ্যুয়াল ইউনিভার্স গঠনের উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
চলচ্চিত্রটি ৩০ কোটি রুপি বাজেটের হলেও আয় করেছে ৩০০ কোটি রুপির বেশি, যা এটিকে সবচেয়ে বেশি আয় করা মালয়ালম সিনেমা হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছে।
বাংলাদেশেও সিনেমাটি দর্শকদের মধ্যে আলোচিত হয়েছে।