ছবি: সংগৃহিত
রাজশাহীর শান্ত শহরে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটে এক বিভীষিকাময় ঘটনা। মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবদুর রহমানের ছেলে তাওসিফ রহমানকে (সুমন) ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে এক যুবক। একই হামলায় আহত হয়েছেন বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার (৪৪)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তবে এই ঘটনার সূত্রপাত আজকের নয়। এর আগেই বিচারকের পরিবার হুমকির মুখে ছিল। ঠিক এক সপ্তাহ আগে, ৫ নভেম্বর সিলেটের জালালাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার।
জিডিতে তিনি লেখেন, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সদস্য হওয়ার সূত্রে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ভবানিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা লিমন মিয়া (৩৫)-এর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। লিমন আর্থিকভাবে দুর্বল হওয়ায় নিয়মিতভাবে মুঠোফোনে সহযোগিতা চাইতেন। কিন্তু বারবার অনুরোধে সাড়া না পেয়ে একপর্যায়ে লিমন হুমকি দিতে শুরু করেন।
৩ নভেম্বর সকাল ১০টা ২০ মিনিটে লিমন মিয়া শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া তাসমিন নাহারের মেয়ের ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে কল করে হুমকি দেন। তিনি তাসমিন নাহার ও তাঁর পরিবারের সবাইকে হত্যা করবেন। গত ৪ নভেম্বর সিলেট নগরীর আম্বরখানায় বিচারকের স্ত্রীকে হেনস্তা করে লিমন। পরে ৫ নভেম্বর জালালাবাদ থানায় লিমনের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, বিচারকের কন্যা তাদের সহপাঠী। তাকে দেখতে বিচারকের স্ত্রী প্রায়ই ক্যাম্পাসে আসতেন। আর এমন খবর পেলেই লিমন পিছু নিত। ক্যাম্পাসে ও পথে-ঘাটে ঝামেলার সৃষ্টি করত। মেয়ের বাসা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন নয়া বাজার এলাকায়। সেখানে গিয়েও লিমন বিরক্ত করত। এ খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মোহাম্মদ মুবাশ্বির জানিয়েছেন, ‘জজ স্যারের স্ত্রীকে ওই যুবকটি দীর্ঘদিন ধরে বিরক্ত করত। ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করছিল। কয়েকদিন আগে (৬ নভেম্বর) ম্যাডাম তাঁর মেয়েকে দেখতে সিলেটে আসেন। খবর পেয়ে ওই যুবকও সিলেটে আসে এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে। পরে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।’
বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে রাজশাহী নগরের ডাবতলা এলাকায় বিচারক আবদুর রহমানের ভাড়া বাসায় প্রবেশ করে লিমন মিয়া। ভবনের দারোয়ান জানান, তিনি নিজেকে ‘বিচারকের ভাই’ পরিচয় দিয়ে ঢোকেন এবং রেজিস্টার খাতায় নাম ও ফোন নম্বরও লিখে রাখেন।
ভবনটির দারোয়ান মেসের আলী বলেন, ওই যুবককে তিনি আগে কখনো দেখেননি। বিচারককে ভাই পরিচয় দেওয়ায় তিনি ঢুকতে দেন। তবে তার আগে নাম ও মুঠোফোন নম্বর লিখিয়ে নেন। বেলা আড়াইটার দিকে ওই যুবক ফ্ল্যাটে যান। এর প্রায় ৩০ মিনিট পর ফ্ল্যাটের গৃহকর্মী তাঁকে এসে জানান, ফ্ল্যাটে বিচারকের ছেলেকে ও স্ত্রীকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। এরই মধ্যে ভবনের অন্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারাও চলে আসেন। তাঁরা সবাই ফ্ল্যাটে ঢুকে তিনজনকেই আহত পান। এরপর তিনজনকেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই ছেলের মৃত্যু হয়।