ছবি: সংগৃহিত
নির্মাতা অরণ্য সাহায়ের নতুন সিনেমা ‘হিউম্যানস ইন দ্য লুপ’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক বাস্তবতার একটি অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ গল্প বলেছে।
ঝাড়খন্ডের ছোট গ্রামে বেড়ে ওঠা নেহমা (সোনাল মধুশঙ্কর) নিজের জীবনের সংগ্রাম এবং প্রযুক্তির জগতে কাজ করার অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সিনেমার গল্প এগিয়ে নিয়ে যান।
নেহমা ডেটা লেবেলিং সেন্টারে ‘ডেটা লেবেলার’ হিসেবে কাজ করেন, যেখানে কর্মীরা ছবি ও ভিডিও লেবেল করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে শেখান। সাধারণের চোখে একঘেয়ে কাজ হলেও নেহমার জন্য এটি তাঁর শৈশব, প্রকৃতি ও পারিবারিক জীবনের সঙ্গে মেলানো অভিজ্ঞতা।
পাশাপাশি নেহমা নিজের ব্যক্তিগত জীবনেও লড়াই চালিয়ে যান-স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক, মেয়েকে কাছে রাখার চেষ্টাসহ নানা দ্বন্দ্বের মধ্যে দিয়ে।
সোনাল মধুশঙ্করের অভিনয় সিনেমায় এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর ঠান্ডা-শান্ত চেহারা ও অভিব্যক্তিতে ভেতরের টানাপোড়েন ফুটে ওঠে।
ধানু চরিত্রে ঋধিমা সিংয়ের অভিনয়ও সমানভাবে প্রভাবশালী। ডেটা সেন্টারের সুপারভাইজার গীতা গুহর চরিত্রও দর্শকের মনে থেকে যায়।
সিনেমার গল্প ধীরে ধীরে এগোয়। সংলাপের মাধ্যমে সরাসরি না হলেও গল্পের বার্তা ফুটে ওঠে। নির্মাতা অরণ্য সাহায়ের সংযমী গল্প বলার ধরণ, নেহমা ও তার মেয়ে ধানুর সম্পর্কের টানাপোড়েন, সামাজিক বৈষম্য এবং নারী অধিকারকে কেন্দ্র করে প্রযুক্তি ও এআই-এর সঙ্গে মানবিকতা মেলানো দক্ষতা প্রশংসার যোগ্য।
সিনেমার দৃশ্যায়ণও প্রশংসনীয়। ঝাড়খন্ডের প্রাকৃতিক দৃশ্যের সঙ্গে ডেটা ল্যাবের মলিন পরিবেশের বৈপরীত্য গল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রতিটি দৃশ্য—গাছ, শজারুর কাঁটা, এবং শেষের ইমেজ সার্চের ভুল বার্তা—গল্পের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক ও বার্তাবহ।
৩১ অক্টোবর থেকে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমা শুধুই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তি নিয়ে নয়; এটি সামাজিক বৈষম্য, নারী অধিকার ও মা-মেয়ের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে নির্মিত এক অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ চলচ্চিত্র। তাই হাজারো সিনেমা-সিরিজের ভিড়ে ‘হিউম্যানস ইন দ্য লুপ’ দর্শকের মনে স্থায়ী দাগ রেখে যাবে।