ফাইল ছবি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায় প্রমাণিত হওয়ায় তাকে এ দণ্ড দেওয়া হয়।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) বেলা ২টা ৫০ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্যান্য সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। রায় ঘোষণার সময় জনাকীর্ণ আদালতে আইনজীবী ছাড়াও জুলাই-অগাস্টের ঘটনায় নিহতদের কয়েকজন পরিবারের সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
রায়ে আদালত জানান- শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে একটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং বাকি দুটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষ মামলার শুরু থেকেই দাবি করে আসছিল, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী সব অপরাধের পরিকল্পনাকারী, হুকুমদাতা ও সর্বোচ্চ নির্দেশদাতা ছিলেন শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বেই আন্দোলনকারীদের ওপর হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ যায় বলেও অভিযোগ করে প্রসিকিউশন।
শেখ হাসিনা ছাড়াও মামলার অন্য দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। এদের মধ্যে মামুনই একমাত্র গ্রেফতার আসামি; তিনি আদালতে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি দুইজন পলাতক। গত বছরের ১৭ অক্টোবর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রথম শুনানি করে এবং সেদিনই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। পরে চলতি বছরের মার্চে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সাবেক আইজিপিকে মামলার আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
মোট পাঁচটি অভিযোগে ১০ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে- উসকানিমূলক বক্তব্য, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ, শিক্ষার্থী আবু সাইদ হত্যায় প্ররোচনা ও সম্পৃক্ততা, চানখারপুলে ছয়জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় নির্দেশ প্রদান এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ। মামলায় আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী, আহত ব্যক্তি, চিকিৎসকসহ মোট ৫৪ জন সাক্ষ্য দেন। আদালতে উপস্থাপন করা হয় হাসিনার কথোপকথনের অডিও-ভিডিও, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং জব্দ করা গুলি। গত ১২ অক্টোবর যুক্তি-তর্ক শুরু হয়ে শেষ হয় ২৩ অক্টোবর। সেদিনই চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম এবং অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছিলেন। রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বরে নিহত ও আহতদের পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং স্লোগান দেন। পরে অ্যাটর্নি জেনারেল সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।
রায়কে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব, এপিবিএন, বিজিবি এবং সেনাবাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে গতকাল সন্ধ্যার পর দোয়েল চত্বর থেকে শিক্ষাভবনমুখী সড়কে যান চলাচল সীমিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।