প্রকাশিত : ১৮ নভেম্বর, ২০২৫ ১৯:৫১ (বুধবার)
হাসিনার বিচারে ন্যায্যবিচারের মান পূরণে ব্যর্থ রাষ্ট্রপক্ষ: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

ছবি: শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সোমবার (১৭ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, বিচার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক ন্যায্যবিচারের মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের সময় সহিংস দমন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে হাসিনা ও খানকে অনুপস্থিতিতেই দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা নিজেদের পছন্দের আইনজীবীর প্রতিনিধিত্বও পাননি—যা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দেয়।

তৃতীয় আসামি সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুন, যিনি বর্তমানে হেফাজতে এবং রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে ছিলেন, তাকে পাঁচ বছরের কম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, ‘শেখ হাসিনার আমলে ভয়াবহ নির্যাতনের দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতেই হবে—কিন্তু সব ধরনের ফৌজদারি মামলা অবশ্যই আন্তর্জাতিক ন্যায্য বিচারের মানদণ্ড মেনে হতে হবে।’

সংস্থাটি জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে সরকার পতনের আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর দমন- পীড়নে জাতিসংঘের হিসাবে অন্তত ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন- যার বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে।

এত গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও, রাষ্ট্রপক্ষ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ, সাক্ষীদের জেরা করার অধিকার এবং পছন্দের আইনজীবীর সেবা পাওয়ার নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে- যা বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তারা নিরাপত্তা বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদের নির্দেশ দিয়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হামলা চালাতে উসকানি দিয়েছিলেন। ড্রোন, হেলিকপ্টার ও মারণাস্ত্র ব্যবহারেও তাদের নির্দেশনার প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

বিচারে রাষ্ট্রপক্ষ ৫৪ জন সাক্ষী হাজির করলেও হাসিনা ও খানের পক্ষে নিয়োজিত সরকার-মনোনীত আইনজীবী কোনো সাক্ষী হাজির না করেই বিচার চালান।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, অনুপস্থিতিতে বিচার পরিচালনা আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত চুক্তির (ICCPR) ১৪ অনুচ্ছেদের স্পষ্ট লঙ্ঘন। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিটিও বলেছে, ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্তের উপস্থিতি, সাক্ষী জেরা ও প্রতিরক্ষা উপস্থাপনের পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, হাসিনা সরকারের অধীনেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার ইতিহাস রয়েছে, এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও একই ধারা বজায় রাখছে।

এইচআরডব্লিউ পরামর্শ দিয়েছে- বাংলাদেশ সরকারের উচিত অভিযুক্তদের সাংবিধানিক অধিকার পুনর্বহাল করা, মৃত্যুদণ্ডের ওপর স্থগিতাদেশ আরোপ করা এবং ভবিষ্যতে মৃত্যুদণ্ড সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্তির উদ্যোগ নেওয়া।