প্রকাশিত : ২৪ নভেম্বর, ২০২৫ ১৯:১০ (সোমবার)
সিলেট-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী রিভিউর দাবি, তৃণমূলে অসন্তোষ চরমে

ছবি: সংগৃহিত

সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ–বিয়ানীবাজার) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন দুই উপজেলার সিনিয়র নেতারা। গত ২৩ নভেম্বর পাঠানো ওই আবেদনে বর্তমান প্রার্থী তালিকা পরিবর্তন করে ফয়সল আহমদ চৌধুরীকে পুনরায় মনোনয়ন দেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, ফয়সল আহমদ চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে সিলেট-৬ আসনে দলের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিকূল সময়ে তিনি জনগণের পাশে থেকেছেন এবং ২০০৭ সাল থেকে প্রায় ১৮ বছর ধরে তৃণমূলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে থেকে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। বন্যা, করোনাকাল, জুলাই আন্দোলনে নিহত–আহত পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুদান, শিক্ষাবৃত্তি, টিফিন ও শীতবস্ত্র বিতরণসহ তার ধারাবাহিক কর্মকাণ্ড তৃণমূলের কাছে তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে।

এতে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ফয়সল আহমদ চৌধুরী সিলেট-৬ আসনে মাত্র দুই ঘণ্টায় ১ লাখ ৮ হাজার ৮৯ ভোট পান। স্থানীয়দের মতে, তার গ্রহণযোগ্যতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা এখনো অটুট। আগামী নির্বাচনে তাকে পুনরায় মূল্যায়ন করলে দল উপকৃত হবে বলেও দাবি করা হয়।

লিখিত আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন: গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. নোমান উদ্দিন মুরাদ, প্রথম সহ-সভাপতি আশফাক আহমদ চৌধুরী, বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ছরওয়ার হোসেন, বিয়ানীবাজার পৌর বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান রুমেল, বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও মোল্লাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্না, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও তিলপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমান, দুবাগ ইউপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. নিয়াজউদ্দিন, বিয়ানীবাজার পৌর সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. কবির আহমদ।

২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর সিলেট-৬ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরীকে প্রার্থী ঘোষণা করা হলে গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারের বড় অংশের নেতা-কর্মীরা হতভম্ব হয়ে পড়েন। তারা প্রকাশ্যে বিক্ষোভ না করলেও তৃণমূলজুড়ে হতাশা ছড়িয়ে পড়ে। তাদের দাবি, ‘এই আসনে নিরপেক্ষ রিভিউ হোক- বিক্ষোভ করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে চাই না।’

এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার হোসেন বলেন, ‘বিএনপি বড় একটা রাজনৈতিক দল। আগামী জাতীয় নির্বাচনে সিলেট-৬ আসনে প্রার্থী মনোনয়নে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আমরা এই আসনে এমন একজন প্রার্থী চাই যাকে নিয়ে কোন বিতর্ক হবে না। ফয়সল আহমদ চৌধুরী সবসময় দলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করার পাশাপাশি বিয়ানীবাজার এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলার মানুষের কল্যাণে সবসময় মাঠে ছিলেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে এমন নেতা প্রয়োজন যিনি সবকিছু ঊর্ধ্বে থেকে মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য কাজ করবেন। প্রার্থী নির্বাচনে হাইকমান্ড যদি এসব বিষয় বিবেচনা না করে যে কাউকে প্রার্থী করে তাহলে নির্বাচনের পর এর খেসারত দলকে দিতে হবে বলে তৃণমূলের কর্মীরা মনে করছেন।’

বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট আহমদ রেজা চৌধুরী বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে কাজ করার সুযোগ নেই। তবে জনসম্পৃক্ততা ভোটের মাঠে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়। আমরা এমন প্রার্থী চাই যিনি নির্বাচিত হলে যেমন কর্মীদের মূল্যায়ন করবেন, তেমনি এলাকার থেকে মানুষের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো বাস্তবায়নে কাজ করবেন।’

এছাড়া তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, এমরান আহমদ চৌধুরীর এলাকায় জনসম্পৃক্ততা কম। ২০১৪ সালের গোলাপগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনে কাপ পিরিচ প্রতীকে তিনি পান মাত্র ৮ হাজার ২০৯ ভোট, যেখানে জামায়াতের প্রার্থী পান ২৪ হাজার ৩৬৯ ভোট- তিনগুণ বেশি। এছাড়া তার আচরণগত বিতর্ক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিও নেতাকর্মীদের মধ্যে অস্বস্তি ও অসন্তোষ বাড়িয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করা গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বলেন, ‘এমরান আহমদ চৌধুরীর তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ কম। তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হওয়া কঠিন।’

স্থানীয়দের মতে, সিলেট-৬ অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন; তাই প্রার্থী নির্বাচনে ভুল হলে এর রাজনৈতিক মূল্য দলকেই দিতে হবে।