ছবি: ইমজা নিউজ
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে প্রাথমিকভাবে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুজিবুর রহমান। তবে এই আসনে তাঁর অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন মনোনয়নবঞ্চিত নেতা মহসিন মিয়া মধু। ফলে আসনটি ঘিরে জেলা বিএনপিতে অস্থিরতা ও বিভক্তি বাড়ছে।
শুক্রবার বিএনপির এই প্রভাবশালী নেতা এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দল মনোনয়ন না দিলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
সাম্প্রতিক এক সমাবেশে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন- ‘দল মনোনয়ন দিলেও ভোটে থাকবো, না দিলেও মাঠে থাকবো।’ তাঁর এমন বক্তব্যের পর সংগঠনে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার-৪ আসনে বিএনপির তিন সম্ভাব্য প্রার্থী জীবনবৃত্তান্ত জমা দেন- কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুজিবুর রহমান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মহসিন মিয়া মধু এবং জেলা বিএনপির সদস্য মৌলভী আব্দুল ওয়ালী সিদ্দিকী।
শ্রীমঙ্গল পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ফয়ছল আহমেদ বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ে জনপ্রিয়তার বিচারে মহসিন মিয়া মধুর অবস্থান শক্তিশালী। বিশেষ করে চা শ্রমিক অধ্যুষিত শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বেশি। চা শ্রমিকদের ভোট ব্যাংকই এ অঞ্চলের নির্বাচনী ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। সেই কারণেই প্রার্থী পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে হাইকমান্ডের কাছে আবেদন করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে মহসিন মিয়া মধু জানান, ‘জনগণের ভালোবাসা ও মতামতের ভিত্তিতে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি নেতাকর্মীরাও তাঁর পক্ষে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী মুজিবুর রহমান বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে বা তাঁকে সমর্থন দিলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে কেন্দ্র ও জেলা বিএনপি।’
তিনি দাবি করেন, দলীয় নেতাকর্মীরা তাঁরকেই সমর্থন দিচ্ছেন।
মৌলভীবাজার-৪ আসনকে ঘিরে দুই পক্ষের অবস্থান এখন স্পষ্ট, আর নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির ভেতরকার এই বিভক্তি আরও তীব্র হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত।