ছবিটি বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় তোলা
সিলেট নগরী ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় শীতের প্রভাব দিন দিন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সিলেট নগরীতে ঘন কুয়াশা ও ধোঁয়াশা বিরাজ করে। সাথে রয়েছে হিমেল হাওয়া। ভরদুপুরেও কুয়াশাচ্ছন্ন থাকায় নগরজুড়ে শীতল ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া অনুভূত হয়। একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে চা-বাগান অধ্যুষিত মৌলভীবাজার জেলাতেও। সেখানে গত কয়েকদিন ধরেই শীতের দাপট বাড়ছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। পুরো জেলা কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে থাকে। ঠান্ডা হাওয়ার সঙ্গে কুয়াশা মিলে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় চলতি সপ্তাহ থেকেই জেলায় শীতের প্রকোপ স্পষ্টভাবে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শহর ও আশপাশের এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সন্ধ্যার পর শহরাঞ্চলে তাপমাত্রা কিছুটা সহনীয় থাকলেও হাওর, পাহাড় ও চা-বাগান এলাকায় শীতের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি অনুভূত হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষ। চা-বাগানগুলোতে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য শীত বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজনগর এলাকার দিনমজুর খালিক মিয়া জানান, কাজের আশায় প্রতিদিন ভোরে শহরে আসতে হয়। কিন্তু শীতের কারণে অনেক সময় কাজ পাওয়া যায় না। কাজ না পেলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
রিকশাচালক সুহেল মিয়া বলেন, সকাল থেকেই কুয়াশা থাকায় রাস্তায় মানুষের চলাচল কম। যাত্রী না থাকায় আয় কমে গেছে। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবিকার সংকটও বেড়ে যাচ্ছে।
চা-শ্রমিক জয়ন্ত কুর্মি জানান, সারাদিন সূর্যের দেখা না পাওয়ায় ঠান্ডা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। সকাল ও রাতের দিকে শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকে। এতে কাজ করাও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সিলেট ও মৌলভীবাজার অঞ্চলে আগামী কয়েকদিন সকাল ও রাতে কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে। তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে শীতের প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।