প্রকাশিত : ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২০:৩৫ (বৃহস্পতিবার)
১ জানুয়ারি বন্ধ হচ্ছে অতিরিক্ত সিম

ছবি: সংগৃহীত

মোবাইল সিম ব্যবহারে অনিয়ম ও অপব্যবহার রোধে আরও কঠোর অবস্থান নিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে একজন গ্রাহক তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে সর্বোচ্চ পাঁচটি মোবাইল সিম সক্রিয় রাখতে পারবেন।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে যাদের নামে ছয় থেকে ১০টি পর্যন্ত সিম রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে সিমের সংখ্যা কমিয়ে পাঁচে নামিয়ে আনা হবে। বিটিআরসি জানিয়েছে, মোবাইল সিমের অপব্যবহার, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং অনিয়ম কমিয়ে আনতেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে। তবে মোবাইল ফোন অপারেটররা আগের মতোই এই সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বিটিআরসির তথ্যমতে, সিম ব্যবহারের সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমানে নবম। এ তালিকায় বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো দেশ।

চলতি বছরের অক্টোবরে দেশে মোট মোবাইল সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের গ্রাহক ৮ কোটি ৫৯ লাখ, রবি’র ৫ কোটি ৭৫ লাখ, বাংলালিংকের ৩ কোটি ৭৯ লাখ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যা ৬৬ লাখ ৭০ হাজার।

বর্তমানে দেশে মোট নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা ২৬ কোটি ৬৩ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ১৯ কোটি সিম সক্রিয় রয়েছে, আর বাকি সিমগুলো নিষ্ক্রিয় অবস্থায় আছে।

এর আগে গত আগস্টে বিটিআরসি নির্দেশ দেয়, এক ব্যক্তির নামে ১০টির বেশি সক্রিয় সিম থাকলে অতিরিক্ত সিম ৩০ অক্টোবরের মধ্যে বাতিল বা মালিকানা পরিবর্তন করতে হবে।

সংস্থাটির তথ্যমতে, সে সময় এক ব্যক্তির নামে ১০টির বেশি সক্রিয় সিম ছিল প্রায় ৬৭ লাখ। গত তিন মাসে এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ সিম গ্রাহক স্বেচ্ছায় বাতিল করেছেন। তবে এখনো প্রায় ৫০ থেকে ৫৩ লাখ সিম বাতিল হয়নি।

বিটিআরসি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব অতিরিক্ত সিম বাতিল না করায় সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে সেগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেওয়া হবে। নতুন বছরের শুরু থেকেই এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।