প্রকাশিত : ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২১:৫২ (বৃহস্পতিবার)
ভারতের উত্তর প্রদেশে সরকারি স্কুলে সংবাদপত্র পড়া বাধ্যতামূলক

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর প্রদেশ সরকার রাজ্যের সব সরকারি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের জন্য দৈনিক সংবাদপত্র পড়া বাধ্যতামূলক করেছে। শিক্ষার্থীদের সাধারণ জ্ঞান, ভাষাদক্ষতা ও সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা উন্নত করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষের পাঠকে বাস্তব বিশ্বের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে যুক্ত করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিদিন সকালের প্রাত্যহিক সমাবেশে (অ্যাসেম্বলি) শিক্ষার্থীরা সংবাদপত্র পড়বে এবং গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে আলোচনা করবে। শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের সংবাদ বিশ্লেষণে সহায়তা করবেন, যাতে তাদের শব্দভান্ডার, পাঠ্যবোধ ও যুক্তি-তর্কের দক্ষতা বাড়ে। প্রতিদিন অন্তত পাঁচটি নতুন শব্দ শিখে তা সহপাঠীদের সঙ্গে শেয়ার করতেও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা হবে।

উত্তর প্রদেশের প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ এক এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে জানায়, স্কুলের প্রার্থনাসভায় নিয়মিত সংবাদপত্র পাঠের ব্যবস্থা থাকবে। শিক্ষার্থীরা প্রধান খবরগুলো উচ্চস্বরে পড়বে, যাতে তারা সাম্প্রতিক ঘটনা সম্পর্কে সচেতন হয় এবং ভাষা বোঝার ক্ষমতা ও চিন্তাশক্তি বিকশিত হয়।

বিভাগটি বলছে, এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পড়ার আগ্রহ, বিশ্লেষণাত্মক দক্ষতা, অভিব্যক্তি প্রকাশের ক্ষমতা এবং দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের গুণাবলি গড়ে তুলবে।

স্কুলগুলোতে এ উদ্যোগের সুষ্ঠু বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের। সরকারি খরচে সংবাদপত্র সরবরাহ করা হবে। শিক্ষকেরা অনুপ্রেরণামূলক গল্প ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি নিয়ে আলোচনা করবেন, যাতে বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত ব্যবধান কমানো যায়।

এ ছাড়া রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব নির্দেশ দিয়েছেন, নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে একবার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সম্পাদকীয় লেখা তৈরিতে উৎসাহিত করতে হবে। শ্রেণিকক্ষে দলগত আলোচনা আয়োজনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সামাজিক সমস্যা ও উন্নয়নসংক্রান্ত খবর পড়ে আলোচনা করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সমাজের সঙ্গে সংযোগ আরও দৃঢ় করার কথা বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, পরিবেশ ও খেলাধুলা বিষয়ক সংবাদ কেটে স্ক্র্যাপবুক তৈরির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের যুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে সংবাদপত্রে প্রকাশিত সুডোকু, ক্রসওয়ার্ড পাজল ও তথ্যভিত্তিক কুইজ সমাধানের জন্য সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা আয়োজনেরও নির্দেশনা রয়েছে।

সরকারি এই উদ্যোগকে শিক্ষাবান্ধব ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা, যা ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের সচেতন, চিন্তাশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।