প্রকাশিত : ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:২১ (সোমবার)
সিলেটের ৬টি ‘চেয়ারের’ জন্য মাঠে নামলেন অর্ধশত প্রার্থী

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সিলেটে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। মাঠে নামতে শুরু করেছেন প্রার্থীরা, শুরু হয়েছে প্রচারণার প্রস্তুতি ও হিসাব–নিকাশ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সিলেটের ছয়টি আসনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন প্রায় অর্ধশত প্রার্থী। তবে মনোনয়ন যাচাই–বাছাই ও প্রত্যাহার প্রক্রিয়া এখনো বাকি থাকায় শেষ পর্যন্ত কারা ভোটের মাঠে থাকছেন, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

গতকাল সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট-১ আসনে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন ১০ জন এবং সবাই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। সিলেট-২ আসনে ১০ জন মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও দাখিল করেছেন ৯ জন। সিলেট-৩ আসনে ১১ জন মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও জমা পড়েছে ৯টি। সিলেট-৪ আসনে ৮ জনের মধ্যে ৭ জন, সিলেট-৫ আসনে ৮ জনের মধ্যে ৬ জন এবং সিলেট-৬ আসনে ৯ জনের মধ্যে ৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে ছয়টি আসনে মোট ৪৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন।

সিলেট-১ (সিলেট সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা) আসনে বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে জেলা আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমান মনোনয়ন দিয়েছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এহতেশামুল হক মনোনয়ন দাখিল করেন। এছাড়া কমিউনিস্ট পার্টির মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, বাসদের প্রণব জ্যোতি পাল, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. শামীম মিয়া, গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান, খেলাফত মজলিসের তাজুল ইসলাম হাসান এবং সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-এর সঞ্জয় কান্তি দাস মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদী লুনা মনোনয়ন দাখিল করেছেন। একই আসনে তাঁর ছেলে মো. আবরার ইলিয়াস স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন। খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, গণফোরামের মুজিবুল হক, জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল হান্নান, জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, গণঅধিকার পরিষদের জামান আহমদ সিদ্দিকী, ইসলামী আন্দোলনের আমির উদ্দিন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুস শহীদও মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।

সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ মালিক। জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান লোকমান আহমদ। এনসিপির প্রার্থী নরুল হুদা জুনেদ, জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান, খেলাফত মজলিসের দিলওয়ার হোসাইন, ইসলামী আন্দোলনের রেদওয়ানুল হক চৌধুরী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী ও মইনুল বাকরও মনোনয়ন দাখিল করেছেন।

সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে জয়নাল আবেদিন, এনসিপির রাশেল উল আলম, গণঅধিকার পরিষদের জহিরুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের আলী হাসান, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা সাইদ আহমদ এবং জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান মনোনয়ন দিয়েছেন।

সিলেট-৫ (কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ) আসনে বিএনপির শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুক দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রশিদ। জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন খান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের বিলাল উদ্দিন, খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আবুল হাসান এবং জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন খালেদও মনোনয়ন দাখিল করেছেন।

সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী এবং বিকল্প প্রার্থী ফয়সল আহমদ চৌধুরী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদের জাহিদুর রহমান, জাতীয় পার্টির আব্দুন নুর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফখরুল ইসলামও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি আপিল গ্রহণ এবং ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি আপিল নিষ্পত্তি করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।