ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের চলমান র্যান্ডম সিলেকশন ড্র টিকেটিং পর্ব অর্ধেক সময় পেরোতেই নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ২০০টিরও বেশি দেশের সমর্থকদের কাছ থেকে ১৫ কোটির বেশি টিকিটের আবেদন জমা পড়েছে।
ফিফার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপে টিকিটের চাহিদা সরবরাহের তুলনায় ৩০ গুণেরও বেশি। এই চাহিদা ১৯৩০ সাল থেকে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ২২টি বিশ্বকাপের ৯৬৪টি ম্যাচে উপস্থিত মোট দর্শকসংখ্যার চেয়েও ৩ দশমিক ৪ গুণ বেশি।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো তার ইনস্টাগ্রাম পোস্টে জানান, ‘ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং সর্বজনীন আয়োজন। মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে ১৫ কোটির বেশি টিকিটের আবেদন এসেছে, যা এই আসরকে ৩০ গুণ অতিরিক্ত চাহিদাসম্পন্ন করে তুলেছে। এটি ২০০টির বেশি দেশের সমর্থকদের বিস্ময়কর আগ্রহের প্রতিফলন।’
তিনি আরও লেখেন, ‘এই অভূতপূর্ব সাড়া প্রমাণ করে ফুটবল বিশ্বজুড়ে কতটা ভালোবাসা পায়। উত্তর আমেরিকায় আমরা এমন এক ইতিহাস রচনা করতে যাচ্ছি, যেখানে সারা বিশ্ব একত্রিত হবে। এই অনন্য উৎসবে ফুটবলের সেরা মুহূর্ত ও বৈশ্বিক ঐক্যের উদ্যাপন হবে।’
র্যান্ডম সিলেকশন ড্র টিকেটিং প্রক্রিয়া আগামী ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত চালু থাকবে। এ সময়ের মধ্যে যাঁরা টিকিটের জন্য আবেদন করবেন, তাঁদের সবারই টিকিট পাওয়ার সুযোগ থাকবে। পরবর্তীতে একটি ড্রয়ের মাধ্যমে টিকিট বণ্টন করা হবে। যাঁরা এই ধাপে টিকিট পাবেন না, তাঁরা পরবর্তী বিক্রয় পর্বে আবার সুযোগ পাবেন।
এদিকে টিকিটের দাম নিয়েও আলোচনা চলছে। গ্রুপ পর্বের টিকিটের দাম ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় সর্বোচ্চ তিন গুণ পর্যন্ত বেশি। আর নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠেয় ফাইনালের সবচেয়ে সস্তা টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ১১৯ পাউন্ড।
সোমবার দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড স্পোর্টস সামিটে ইনফান্তিনো বলেন, ‘আমাদের বিক্রির জন্য ছিল ছয় থেকে সাত মিলিয়ন টিকিট। কিন্তু মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই আমরা পেয়েছি ১৫ কোটি আবেদন- প্রতিদিন গড়ে ১ কোটি করে। এটি বিশ্বকাপের শক্তিমত্তার প্রমাণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় ১০০ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাসে ফিফা মোট ৪৪ মিলিয়ন টিকিট বিক্রি করেছে। অথচ মাত্র দুই সপ্তাহে আমরা এমন আবেদন পেয়েছি, যা ৩০০ বছরের বিশ্বকাপের সমান। বিষয়টি সত্যিই অবিশ্বাস্য।’
আগামী ১১ জুন শুরু হবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ, যা ১৯ জুলাই ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নেবে এই আসরে। মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।