ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে বিএনপির মোট ১১ জন নেতা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে দুটি আসনে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুজন করে প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন এবং তিনটি আসনে মনোনয়ন না পেয়ে চারজন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। একই আসনে একাধিক প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থিতাকে ঘিরে দলীয় কৌশল ও সমন্বয় নিয়ে স্থানীয় বিএনপিতে আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর, ধর্মপাশা, মধ্যনগর ও জামালগঞ্জ) আসনে প্রথমে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আনিসুল হককে। পরে ২৮ ডিসেম্বর একই আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুলকেও মনোনয়ন দেয় দল। ২৯ ডিসেম্বর উভয় নেতা দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনেও। এখানে প্রথমে দলীয় মনোনয়ন পান সাবেক সংসদ-সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী। পরে ২৮ ডিসেম্বর জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেলকে দ্বিতীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। দুজনই নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
দুটি আসনে দুজন করে প্রার্থী থাকায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। কে হবেন চূড়ান্ত দলীয় প্রার্থী- এ নিয়ে চলছে আলোচনা ও জল্পনা। এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) জিকে গউছ বলেন, ‘এটি দলের কৌশলগত সিদ্ধান্ত। বিকল্প হিসেবে দুজনকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে এবং প্রতীক বরাদ্দের দিন, আগামী ২১ জানুয়ারি, দলের নির্দেশ অনুযায়ী একজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন।’
অন্যদিকে, মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে সুনামগঞ্জের তিনটি আসনে চারজন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন। সুনামগঞ্জ-৩ (শান্তিগঞ্জ-জগন্নাথপুর) আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ।
সুনামগঞ্জ-৪ (সদর-বিশ্বম্ভরপুর) আসনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন মরমি কবি হাসন রাজার প্রপৌত্র ও জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন। একই আসনে সাবেক হুইপ ফজলুল হক আসপিয়ার ছেলে জেলা বিএনপির সদস্য ব্যারিস্টার আবিদুল হকও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল।
সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী। তিনি সোমবার মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ-সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন।
সব মিলিয়ে সুনামগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে বিএনপির ১১ জন নেতা প্রার্থী হওয়ায় নির্বাচনকে ঘিরে জেলাজুড়ে রাজনৈতিক আলোচনা, কৌশলগত হিসাব-নিকাশ ও টানাপোড়েন বেড়েছে। দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়, মনোনয়ন প্রত্যাহার এবং শেষ পর্যন্ত কারা মাঠে থাকছেন- সেদিকেই এখন নজর স্থানীয় নেতাকর্মীদের।