প্রকাশিত : ০১ জানুয়ারী, ২০২৬ ০০:১৯ (সোমবার)
ভোটের বছর ২০২৬: শীত ছাপিয়ে সিলেটজুড়ে বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ

২০২৫ সালে দেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন ছিল—জাতীয় নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে। বছরের শুরুতে যেখানে রাজনৈতিক আলোচনা আবর্তিত হয়েছিল সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নকে ঘিরে, সেখানে বছরের শেষ দিকে এসে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার মধ্য দিয়ে সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে। গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ অনুমোদনের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পথ সুগম হয়।

২০২৫ সালজুড়েই রাজনৈতিক অঙ্গন ছিল সরব। নির্বাচন ও সংস্কারের দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল রাজপথে কর্মসূচি পালন করে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দলগুলো নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে অবস্থান জানান দেওয়ার চেষ্টা করে। বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি ইসলামপন্থী দল রাজধানীতে বড় সমাবেশ করে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয়।

এদিকে গণঅভ্যুত্থানের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। এর ফলে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হয় এবং দলটি আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ হারায়। বিভিন্ন সময় দলটির পক্ষ থেকে মিছিলের চেষ্টা এবং সহিংসতার অভিযোগও উঠে এসেছে।

সব মিলিয়ে ২০২৫ সালকে দেশের রাজনীতিতে একটি সন্ধিক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পুরোনো রাজনৈতিক বাস্তবতার পরিবর্তন, নতুন রাজনৈতিক বিন্যাসের সম্ভাবনা, সংস্কারের প্রত্যাশা এবং সহিংসতা নিয়ে শঙ্কা—সবকিছু মিলিয়ে বছরজুড়ে রাজনীতি ছিল উত্তাল। এর মধ্যেই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ঘোষণা নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে।

সিলেটে জমে উঠেছে ভোটের মাঠ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট অঞ্চলেও রাজনৈতিক তৎপরতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ছয়টি সংসদীয় আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছেন। যদিও মনোনয়ন যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহার শেষে প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারিত হবে, তবুও নির্বাচনী উত্তেজনা এখনই চোখে পড়ছে।

জানা গেছে, সিলেটের ছয়টি আসনে প্রায় অর্ধশত প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ২৯ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। ওই দিন দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক দলগুলো কৌশলগত প্রচারণা শুরু করেছে, যা দিন দিন আরও জোরালো হচ্ছে।

প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, দলীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ছয়টি আসনেই সক্রিয় রয়েছেন। উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।

মনোনয়ন জমা ও পরবর্তী কার্যক্রম

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে,
সিলেট-১ আসনে ১০ জন,
সিলেট-২ আসনে ৯ জন,
সিলেট-৩ আসনে ৯ জন,
সিলেট-৪ আসনে ৭ জন,
সিলেট-৫ আসনে ৬ জন এবং
সিলেট-৬ আসনে ৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

সব মিলিয়ে ছয়টি আসনে মোট ৪৭টি মনোনয়নপত্র দাখিল হয়েছে। যদিও বিক্রি হয়েছিল ৫৬টি মনোনয়নপত্র।

সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়ন যাচাই-বাছাই চলবে। ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি আপিল গ্রহণ এবং ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি আপিল নিষ্পত্তি করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি এবং ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।

সামনে ভোটের মূল লড়াই

প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই শুরু হবে মূল নির্বাচনী প্রচারণা। কোন প্রার্থী কীভাবে মাঠে থাকবেন, দলের সাংগঠনিক শক্তি ও প্রচারণার কৌশল—সবকিছুর ওপরই নির্ভর করবে চূড়ান্ত ফলাফল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিলেটের ছয়টি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দৃশ্যমান।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনকে ঘিরেই এখন সিলেটজুড়ে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ ও আগ্রহ।