সিলেটের সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন পাঠ্যবই নিয়ে আসা একটি ট্রাক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ড্রেনের ওপর স্থাপিত স্ল্যাব ভেঙে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সময় ট্রাকটি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশ করছিল। হঠাৎ করে ড্রেনের একটি স্ল্যাব ভেঙে যাওয়ায় গাড়ির পেছনের অংশ নিচে দেবে যায়। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ট্রাকটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কিছু সময়ের জন্য ওই এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
ট্রাকচালক নিজাম জানান, তিনি ঢাকার একটি গুদাম থেকে অষ্টম শ্রেণির চারটি বিষয়ের পাঠ্যবই বহন করে সিলেটে এসেছিলেন। ট্রাকে প্রায় ১৬ টন বই ছিল। স্কুলের গেটে ঢোকার মুহূর্তে হঠাৎ স্ল্যাব ভেঙে গেলে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার পরপরই বিদ্যালয় এলাকায় উপস্থিত অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের সামনে ড্রেনের স্ল্যাবগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি একাধিকবার নজরে আনা হলেও কার্যকর কোনো সংস্কার হয়নি। তাদের দাবি, অবহেলার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ড্রেনের স্ল্যাবগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে—এটি আগে থেকেই জানা ছিল। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সংস্কারের জন্য সিটি করপোরেশনের কাছে অনুরোধ জানানো হবে।
উল্লেখ্য, বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন পাঠ্যবই সরবরাহ কার্যক্রম চলাকালে এমন দুর্ঘটনায় এলাকায় কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হলেও সৌভাগ্যবশত বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানি ঘটেনি।
এদিকে, নতুন বছরের শুরুতেই নতুন বইয়ের ঘ্রাণে মুখর হয়ে উঠেছে সিলেটের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলে স্কুলে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হয়। বছরের প্রথম দিনেই বই হাতে পেয়ে উচ্ছ্বসিত দেখা যায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের। কেউ আগ্রহভরে পাতা উল্টে দেখছে, কেউ আবার রঙিন মলাটের বই বুকে জড়িয়ে ধরে আনন্দ প্রকাশ করছে।
সকাল থেকেই সিলেট নগরসহ বিভিন্ন উপজেলায় সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন শ্রেণিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দেন শিক্ষকরা। কোথাও কোথাও শিক্ষার্থীদের ফলাফল যাচাই শেষে বই বিতরণ করা হয়।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ বছর কেন্দ্রীয়ভাবে বই উৎসব আয়োজন করা হয়নি। তবে ১ জানুয়ারি থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং তা বাস্তবায়ন হচ্ছে। সিলেট বিভাগের চার জেলার প্রাথমিক পর্যায়ের প্রায় ১৬ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য মোট ৫৮ লাখ ৮৫ হাজার ২৩টি বই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক স্তরে রয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার শিক্ষার্থী, প্রথম শ্রেণিতে ২ লাখ ৯৯ হাজার, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২ লাখ ৯০ হাজার, তৃতীয় শ্রেণিতে ২ লাখ ৭০ হাজার, চতুর্থ শ্রেণিতে ২ লাখ ৮০ হাজার এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ২ লাখ ৬৫ হাজার শিক্ষার্থী।