ছবি: সংগৃহীত
নিজেদের বহর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স নীতিগতভাবে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ‘এয়ারবাস’কে বাদ দিয়ে এসব বিমান ‘বোয়িং’ কোম্পানি থেকে নেওয়া হবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা এবং বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান শেখ বশির উদ্দিনের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার বিমানের বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) জানান, পরিচালনা পর্ষদ নীতিগতভাবে ১৪টি বোয়িং বিমান কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। তবে দাম ও অন্যান্য শর্ত নিয়ে বোয়িংয়ের সঙ্গে আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অনুমোদিত ১৪টি উড়োজাহাজের মধ্যে রয়েছে- আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দু’টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার, চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর অংশ হিসেবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগেই বোয়িং থেকে বিমান কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। পরবর্তী যাচাই-বাছাই শেষে বিমান কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে।
পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা বলেন, দেশের এভিয়েশন সক্ষমতা বাড়ানো, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাহিদা মেটাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন বিমানগুলো যুক্ত হলে রাষ্ট্রীয় ও বাণিজ্যিক উভয় ক্ষেত্রে কার্যক্রম প্রসারের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও আর্থিক প্রক্রিয়া শেষে বোয়িংয়ের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি সই হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিমানগুলো বাংলাদেশে পৌঁছাবে।
বোসরা ইসলাম বলেন, ‘বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য, আর বোয়িং ৭৩৭-৮ ন্যারা-বডি উড়োজাহাজ আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ রুটের জন্য ব্যবহৃত হবে। এই সিদ্ধান্ত বিমান বহর আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক, আন্তর্জাতিক আকাশপথে বাংলাদেশের সংযোগ বাড়াবে এবং যাত্রী ও পণ্য পরিবহনকে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের এভিয়েশন সম্পর্কও আরও সুদৃঢ় হবে।’