প্রকাশিত : ০৩ জানুয়ারী, ২০২৬ ১৮:২৩ (রবিবার)
শায়েস্তাগঞ্জে ‘ছাত্রলীগ’ আখ্যায় আটক, আন্দোলনের মুখে মুক্তি

ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে আটক এনামুল হাসান নয়ন নামের এক তরুণকে আন্দোলনের মুখে মুক্তি দিয়েছে পুলিশ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা দাবি করেন, নয়ন জুলাই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকাল ৩টার দিকে শায়েস্তাগঞ্জ থানা থেকে নয়ন মুক্তি পান। এর আগে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১২টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।

এনামুল হাসান নয়ন শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার কলিমনগর গ্রামের আনোয়ার আলীর ছেলে। উপজেলা ছাত্রলীগের একটি কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে তার নাম রয়েছে।

শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম জানান, ছাত্রলীগের কমিটিতে নাম থাকায় প্রাথমিকভাবে নয়নকে আটক করা হয়। তবে পরে তিনি জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন- এমন তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়। আন্দোলনে অংশগ্রহণের প্ল্যাকার্ডসহ তার ছবি পুলিশের কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসান বলেন, ‘ছাত্রলীগের কমিটিতে নাম থাকলেও নয়ন স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তিনি আমার সঙ্গেই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। এ বিষয়ে অনেক ছবি ও ভিডিও রয়েছে। তারপরও তাকে আটক করায় আমরা মর্মাহত হয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর আগেও আমাদের আন্দোলনে অংশ নেওয়া আরও তিনজনকে ছাত্রলীগের তকমা দিয়ে আটক করা হয়েছে। তাদের একজন এখনও কারাগারে আছেন। এসব ঘটনায় আমাদের কষ্ট লাগে।’

পুলিশ সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে শায়েস্তাগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নয়নকে আটক করেন। আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা তার মুক্তির দাবিতে থানায় জড়ো হতে থাকেন। শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে জেলা সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানের নেতৃত্বে ছাত্রজনতা থানার সামনে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে।

দুপুর আড়াইটার দিকে জেলা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিকাল ৩টার দিকে নয়নকে মুক্তি দেওয়া হয়।

এদিকে মাহদী হাসানের ফেসবুকে দেওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি আটক প্রসঙ্গে পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে বক্তব্য দেন এবং বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ‘ডেভিল’ আখ্যা দিয়ে গ্রেফতার করা কেন হয়েছে- সে প্রশ্নের জবাব প্রশাসনকে দিতে হবে।