ছবি: মাওলানা সিরাজুল ইসলাম ফারুকী
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক- দোয়ারাবাজার) আসনজুড়ে বিরাজ করছে উত্তেজনা ও আলোচনার ঝড়। এরই মধ্যে আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম ফারুকীর মনোনয়নপত্র ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জালিয়াতি ও গড়মিলের অভিযোগে বাতিল হওয়ায় জেলাজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
গত ৩ জানুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় একাধিক ভোটারকে ডেকে তাদের স্বাক্ষর যাচাই করা হয়। এ সময় অনেক ভোটার অভিযোগ করেন, তারা কোনো স্বাক্ষর দেননি, অথচ তাদের নাম ও স্বাক্ষর মনোনয়নপত্রের তালিকায় ব্যবহার করা হয়েছে। ফোনে যোগাযোগ করেও বেশ কয়েকজন ভোটার স্বাক্ষর দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। কয়েকজন ভোটার সরাসরি উপস্থিত হয়ে জানান, তাদের অজান্তেই তালিকায় নাম ও স্বাক্ষর যুক্ত করা হয়েছে, যা জালিয়াতির স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই শেষে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াছ মিয়া জানান, স্বাক্ষর জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ‘আইন অনুযায়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীকে প্রকৃত ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দিতে হয়। বহু ভোটার লিখিত ও মৌখিকভাবে স্বাক্ষর অস্বীকার করায় জালিয়াতি প্রমাণিত হয়েছে। সে কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।’
বাংলাদেশ আঞ্জুমানে আল ইসলাহ–সমর্থিত এই স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বুরাইয়া মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম ফারুকীকে সংগঠনের পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জ-৫ আসনে প্রার্থী করা হয়েছিল। একই উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের চেলারপাড় ও কল্যাণপুর গ্রামে দুই আলেম প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছিল।
এই আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন সিলেট জামায়াতে ইসলামীর শুরা সদস্য ও গোবিন্দনগর ফজলিয়া সিনিয়র আলিয়া মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী, যিনি দলীয় দাড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করছেন।
মনোনয়ন বাতিলের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দক্ষিণ ছাতকের আল ইসলাহ নেতা ও সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা কদ্দুছ আমিন ফারুকীকে লক্ষ্য করে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একজন আলেমের বিরুদ্ধে জালিয়াতি বা অনৈতিক কাজের অভিযোগ অত্যন্ত লজ্জাজনক। এতে আলেম সমাজের মান-সম্মান প্রশ্নবিদ্ধ হয়।’
তিনি আরও দাবি করেন, শরিষপুর দাখিল মাদ্রাসার ১২ শিক্ষক নিয়োগে জালিয়াতির মামলায় ফারুকী আগে থেকেই বিতর্কিত ছিলেন এবং মনোনয়নপত্র বাতিল তার অনিয়মের সর্বশেষ উদাহরণ।
মনোনয়ন বাতিলের ঘটনায় সুনামগঞ্জ-৫ আসনের নির্বাচনী সমীকরণ নতুন মোড় নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনী মাঠে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন।