ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের বিপরীতে কিছু ক্ষেত্রে মুনাফার হার কমানোর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেখান থেকে সরে এসেছে সরকার। নতুন সুদহার বাতিল করে আগের হারই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) অর্থ বিভাগ নতুন মুনাফার হার বাতিল করে পুরনো হার কার্যকর রাখতে প্রজ্ঞাপন জারির জন্য অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগকে (আইআরডি) অনুরোধ করে। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইআরডি সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন জারি করবে।
প্রজ্ঞাপন জারি হলে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যে হারে সঞ্চয়পত্রে মুনাফা দেওয়া হচ্ছিল, আগামী ছয় মাসও একই হারে বিনিয়োগকারীরা মুনাফা পাবেন।
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব আবদুর রহমান খান রোববার সন্ধ্যায় বলেন, ‘পূর্বের হার বহাল রেখে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। না হলে এখনই জারি হবে।’
এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এতে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটে আগের হারই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
জানা গেছে, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীন বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রের মধ্যে পরিবার সঞ্চয়পত্র সবচেয়ে জনপ্রিয়। এ সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছর মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশই বহাল থাকছে। সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকছে।
পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে।
পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ আগের মতোই থাকছে।
এ ছাড়া তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশই বহাল থাকছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।