ছবি: সংগৃহীত
গত ২ দিন ধরে বৃহত্তর সিলেটসহ পুরো দেশেই বিরাজ করছে প্রবল শৈত্যপ্রবাহ দারুন শীতল আবহাওয়া । দিন দিন শীতের তীব্রতা বেড়েই চলছে। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল জুড়ে শীতের মাত্রা খুবই বেড়ে গেছে । যেন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে গোটা দেশ ও অঞ্চল।
সোমবার (৫ জানুয়ারী) তো দেশের অধিকাংশ স্থানে সূর্যের মূখই দেখা যায়নি । ফলে শীতের দাপটে জনজীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। সাথে সাথে কর্মহীন হয়ে পড়েছে নবীগঞ্জ উপজেলসহ বৃহত্তর সিলেট এলাকার খেটে খাওয়া দিনমজুর মানুষগুলো । প্রচন্ড শীত সহ্য করতে না পেরে গত ২ দিন ধরে নবীগঞ্জ উপজেলাসহ বিভিন্ন বাজারে পুরানো গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে প্রচন্ড ভীড় লক্ষ্য করা গেয়ে। আর কেউ কেউ হাত পা গরম করার জন্য খড়কুটো ও ছেঁড়া কাপড় দিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। এছাড়া কোথাও কোথাও কয়েকজন বৃদ্ধলোক শীতের প্রকোপে মারাও গেছেন।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানাযায়, দেশের সিলেটের শ্রীমঙ্গল ও চট্রগ্রামের লালখানসহ আরো অনেক স্থানে তাপমাত্রা সর্বনিন্ম পর্যায়ে নেমে গিয়ে দেশে শীতে তীব্রতা বেড়ে চলছে। শীতে তীব্রতা এমন ভাবে ঝুকে বসছে যে যুবকরাই ঠিকতে পারছে না আর বৃদ্ধলোকদের অবস্থা তো আরও করুণ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বৃহত্তর সিলেটের মধ্যে সুনামগঞ্জ ও আজমিরীগঞ্জে হতদরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষ বেশী। যারা দিন আনে দিন খায়। চলতি সপ্তাহের গত ২ দিন ধরে প্রচন্ড শীতে জীবন যুদ্ধে বেঁচে থাকার জন্য কাজের সন্ধানে বের হলেও কোথাও তাদের জন্য কাজ মিলছে না। আর প্রচন্ড শীতের তীব্রতার কারণে কৃষকরা কাজ করার জন্য ঘর থেকে মোটেও বের হতে পারছেন না। অগ্রহায়ন মাস শেষ হতে না হতেই এমন শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় চলতি পৌষ মাসে শীতের তীব্রতা যে আরো বাড়বে তা নিয়ে সাধারণ মানুষ রয়েছেন চরম দুশ্চিন্তায়। বর্তমান সময়ে পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারী শৈত্যপ্রবাহ শুরুর কারনে নবীগঞ্জ উপজেলাসহ হবিগঞ্জ জেলার অন্যান্য উপজেলার খেটে খাওয়া নিন্ম আয়ের মানুষের জীবন যাত্রা একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। দরিদ্র অভাবী পথ শিশু,বৃদ্ধ লোকজন শীত বস্ত্রের অভাবে অতি কষ্টে দিনযাপন করছে। গরম কাপড়ের অভাবে দুঃস্থ ও ছিন্নমূল মানুষ ঘর ছেড়ে বাহিরে কোথাও যেতে পারছেন না। নিন্ম আয়ের লোকজন ও শ্রমিকরা চরম ভোগান্তিতে দিনতিপাত করছেন।
নবীগঞ্জ উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার পাল হিমেল বলেন, ‘নবীগঞ্জে দিনমজুর, গরীব ও ছিন্নমূল মানুষ আর পথশিশুরা গরম কাপড়ের অভাবে খুবই কষ্টে আছে। এমন বিপদে সমাজের বিত্তবান ও সরকারকে শীতবস্ত্র বিতরণে এগিয়ে আসা একান্ত প্রয়োজন।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সমাজের দরিদ্র ও ছিন্নমুল এসব মানুষগুলো একটু গরম কাপড়ের আশায় সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের দিকে চেয়ে দিন অতিবাহিত করছেন।