প্রকাশিত : ০৯ জানুয়ারী, ২০২৬ ১৯:৩৫ (বৃহস্পতিবার)
রাজবন্দি মুক্তি শুরু ভেনেজুয়েলায়

ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার সরকার বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেওয়া শুরু করেছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ উদ্যোগকে দেশটির রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, বিরোধী দলের দুই শীর্ষ নেতা এনরিক মারকেজ (৬২) ও বিয়াজিও পিলিয়েরিকে ইতোমধ্যে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তারা দুজনই ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে সরকারের বিরোধিতা করেছিলেন। এনরিক মারকেজ বিরোধী প্রার্থী এডমুন্ডো গঞ্জালেসের ঘনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন এবং বিয়াজিও পিলিয়েরি ছিলেন বিরোধী রাজনৈতিক নেতা ও আইনপ্রণেতা।

জাতীয় সংসদের সভাপতি জর্জ রদ্রিগেজ টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে জানান, অচিরেই বিপুলসংখ্যক রাজনৈতিক বন্দি ও বিদেশি নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হবে। তবে কতজনকে মুক্তি দেওয়া হবে বা কী প্রক্রিয়ায় তা বাস্তবায়ন করা হবে- সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। সরকার এ উদ্যোগকে শান্তি ও জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।

এদিকে স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলায় আটক থাকা পাঁচজন স্প্যানিশ নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে মানবাধিকার কর্মী রোসিও সান মিগুয়েলও রয়েছেন।

তবে স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা ফোরো পেনাল জানিয়েছে, দেশটিতে এখনো শত শত রাজনৈতিক বন্দি আটক রয়েছেন এবং সর্বশেষ মুক্তির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে খুবই সীমিত। সংস্থাটি এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে।

ভেনেজুয়েলার বিরোধী রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, সরকার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী কণ্ঠ দমন করতে ইচ্ছামতো গ্রেপ্তার ও আটক করে আসছে, বিশেষ করে ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর থেকে এ ধরনের ঘটনা বেড়েছে। যদিও সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে ‘রাজনৈতিক বন্দি’ হিসেবে স্বীকার করে না, তবে বিরোধী দল ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বারবার এ অভিযোগ তুলে ধরেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মুক্তির উদ্যোগ রাজনৈতিক চাপ ও আন্তর্জাতিক সমালোচনা প্রশমনের একটি কৌশল হতে পারে। তবে ব্যাপক আকারে বন্দিমুক্তি ও মানবাধিকার পরিস্থিতির বাস্তব উন্নয়ন না হলে এ উদ্যোগের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।