প্রকাশিত : ০৯ জানুয়ারী, ২০২৬ ১৯:৪৪ (বৃহস্পতিবার)
মাধবপুরে জনকল্যাণ প্রতিশ্রুতি  নিয়ে মাঠে বিএনপি

ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জ–৪ আসন (মাধবপুর–চুনারুঘাট) জুড়ে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণায় এবার যুক্ত হয়েছে ভিন্ন মাত্রা। প্রচলিত স্লোগান ও প্রতিশ্রুতির বাইরে গিয়ে দলটি জনগণের দৈনন্দিন জীবনঘনিষ্ঠ সমস্যাকে সামনে রেখে সুস্পষ্ট জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি তুলে ধরছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় মানুষ আর কেবল আশ্বাসে সন্তুষ্ট নয়-জনগণ এখন চায় স্পষ্ট পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা। সে লক্ষ্যেই বিএনপি তাদের প্রচারণার কেন্দ্রে এনেছে আটটি জনকল্যাণমূলক ইস্যু, যা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনমানের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

প্রচারণায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড। এই কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে সহায়তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে যখন সাধারণ মানুষ দিশেহারা, তখন এই উদ্যোগ জনগণের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করছে। স্থানীয়রা বলছেন, ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়িত হলে সংসার পরিচালনায় বড় ধরনের স্বস্তি আসবে।

একইভাবে স্বাস্থ্য কার্ড কর্মসূচির আওতায় বিনা খরচে অথবা স্বল্প খরচে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করার কথা জানানো হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে চিকিৎসা ব্যয় ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধার অভাব দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিএনপির এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও মানবিক বলে মনে করছেন অনেকেই।

কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে কৃষিকার্ড। এর মাধ্যমে কৃষকদের জন্য সার, বীজ ও কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে ন্যায্য লাভ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষা কার্ড চালুর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খরচে সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে, যাতে দারিদ্র্যের কারণে কোনো শিক্ষার্থী ঝরে না পড়ে।

তরুণ সমাজের কথা বিবেচনায় এনে বিএনপি ঘোষণা করেছে কর্মসংস্থান কার্ড। এই কার্ডের মাধ্যমে বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার পরিকল্পনার কথা জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি শ্রমিক কার্ড চালুর মাধ্যমে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া নারী ও শিশুদের জন্য আলাদা গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হচ্ছে নারী ও শিশু সুরক্ষা কার্ড। এর মাধ্যমে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সমাজের প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য রয়েছে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড, যার মাধ্যমে নিয়মিত ও সম্মানজনক সহায়তা দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সহসভাপতি সৈয়দ মোঃ শাহজাহান বলেন, ‘হবিগঞ্জ–৪ আসনের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। আমাদের ৮টি জনকল্যাণ ইস্যু বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই প্রতিশ্রুতিগুলো কাগজে নয়, বাস্তবে রূপ দেওয়া হবে।’

মাধবপুর পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য আলাউদ্দিন আল রনি বলেন, ‘মানুষ এখন রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, কাজ দেখতে চায়। কে মানুষের জন্য কী করবে-এই প্রশ্নের বাস্তব উত্তর দিচ্ছে আমাদের ৮টি কল্যাণ ইস্যু। তরুণ, কৃষক, শ্রমিক, নারী ও প্রবীণ- সব শ্রেণির মানুষের কথা এখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।’

হবিগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ মোঃ ফয়সল বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ গবেষণা ও গভীর চিন্তাভাবনার মাধ্যমে ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব এবং ৮টি জনকল্যাণ ইস্যুকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। এই কর্মসূচিগুলো কোনো লোক দেখানো প্রতিশ্রুতি নয়, বরং জনগণের বাস্তব প্রয়োজন থেকেই তৈরি। আমি দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার মানুষের দুঃখ-কষ্ট কাছ থেকে দেখেছি। কৃষক তার ন্যায্য মূল্য পায় না, যুবক চাকরি পায় না, অসুস্থ মানুষ চিকিৎসার অভাবে কষ্ট পায়-এই বাস্তবতাকে বদলাতেই আমাদের এই উদ্যোগ। জনগণের রায়ে যদি আমরা নির্বাচিত হতে পারি, তাহলে হবিগঞ্জ-৪ আসনকে একটি কল্যাণমুখী মডেল হিসেবে গড়ে তুলব। আমি বিশ্বাস করি, ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পাওয়ার পথে এগিয়ে যাবে। এজন্য এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।’