প্রকাশিত : ০৯ জানুয়ারী, ২০২৬ ২০:০৫ (বৃহস্পতিবার)
ফের উৎপাদনে ফেরার অপেক্ষায় ছাতক সিমেন্ট কারখানা

ছবি: সংগৃহীত

শিল্প এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, ‘ছাতক সিমেন্ট কারখানার বিদ্যমান উৎপাদনপদ্ধতি ওয়েট প্রসেস থেকে ড্রাই প্রসেসে রূপান্তর করা হলে দ্রুত উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে।’

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় অবস্থিত ছাতক সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।

পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিল্প উপদেষ্টা বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান যে পথ দেখিয়েছে, সেই পথ অনুসরণ করেই আগামীর নির্বাচিত সরকার দেশের শিল্পোন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) চেয়ারম্যান মো. ফজলুর রহমান, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী কাজী গোলাম মোস্তফা এবং ছাতক সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুর রহমান।

উল্লেখ্য, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তঘেঁষা ছাতক উপজেলায় সুরমা নদীর তীরে ১৯৩৭ সালে ছাতক সিমেন্ট কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালে এর নাম ছিল ‘আসাম বেঙ্গল সিমেন্ট কোম্পানি’ এবং এটি ছিল ব্যক্তিমালিকানাধীন। ১৯৬৫ সালের পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের সময় মালিকপক্ষ কারখানাটি ছেড়ে গেলে ১৯৬৬ সালে এটি রাষ্ট্রীয় মালিকানায় আসে। পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) এর নিয়ন্ত্রণ নেয়।

জানা যায়, ২০২০ সালে ভারত সরকার চুনাপাথর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেএলএমসির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে ছাতক সিমেন্ট কারখানায় কাঁচামাল সংকট দেখা দেয়। চুনাপাথর সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ২০২১ সালের মে মাসে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে পুরোনো ও নতুন- উভয় ইউনিটেই উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

তবে শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ছাতক সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের উৎপাদন পদ্ধতি ওয়েট প্রসেস থেকে ড্রাই প্রসেসে রূপান্তরের লক্ষ্যে ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে কারখানাটির উৎপাদন পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।