প্রকাশিত : ১০ জানুয়ারী, ২০২৬ ২৩:০৭ (বুধবার)
‘সমালোচনা চাই, তবে সমাধানমুখী’- সম্পাদকদের উদ্দেশে তারেক রহমান

ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রের প্রকৃত গণতান্ত্রিক রূপান্তর নিশ্চিত করতে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ অপরিহার্য- এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের সম্পাদকরা। তারা বলেছেন, বিগত বছরগুলোতে সংবাদমাধ্যম বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রিত ও নিপীড়িত হলেও চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে মানুষের মধ্যে নতুন আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। এই নতুন বাস্তবতায় উগ্রবাদ মোকাবিলা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে রাজনৈতিক দল ও সংবাদমাধ্যমকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে সম্পাদকরা এসব কথা বলেন। বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা। অনুষ্ঠানে তিনি সম্পাদকদের বিভিন্ন পরামর্শ ও উদ্বেগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন।

যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান বক্তব্যে জিয়া পরিবারের জনপ্রিয়তার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জীবিত অবস্থায় নিজের জনপ্রিয়তা উপলব্ধি করতে পারেননি, যা তার জানাজায় মানুষের অভূতপূর্ব উপস্থিতিতে স্পষ্ট হয়েছিল। একইভাবে বেগম খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তাও জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে।

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে ভোট দিতে আগ্রহী, তবে এই জনপ্রিয়তাকে ভোটে রূপান্তর করে ক্ষমতায় যেতে হবে।’

তিনি আরও প্রস্তাব দেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যেন আর কখনো বিলিয়ন ডলার চুরি না হয়- সে জন্য এখনই একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা এবং পুলিশ বাহিনীকে নতুন নৈতিকতায় গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি সাংবাদিকদের জন্য আলাদা আইন না করে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম গণতন্ত্রের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনকে ভবিষ্যৎ রাজনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘উপকূলীয় অঞ্চলের সংকট, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ভয়াবহভাবে নিচে নেমে যাওয়া এবং নদীদূষণের বিষয়গুলোকে আগামী দিনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।’ একই সঙ্গে বিএনপির নতুন যাত্রা ও স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আমরা অনেকটাই স্বাধীন, আবার অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। এই নিয়ন্ত্রণ আসছে মব ভায়োলেন্স থেকে।’ সংবাদপত্র অফিসে হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই বাস্তবতায় তারেক রহমানের নেতৃত্বেই উগ্রবাদ মোকাবিলা সম্ভব বলে তিনি আশা করেন।

নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দল যদি গণতান্ত্রিক রূপান্তর চায়, তবে তাদের দায়িত্ব সাংবাদিকতার স্বাধীন পরিবেশ নিশ্চিত করা।’

তিনি বলেন, ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর মানুষের যে নতুন আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, সেখানে পুরোনো ধাঁচের নিয়ন্ত্রণ আর গ্রহণযোগ্য নয়।’

আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ইতিহাস ও রাজনীতির নানা প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের বাইরে থাকার কারণে প্রকৃত বাস্তবতা জানা জরুরি, আর সে ইতিহাস তিনি তুলে ধরতে প্রস্তুত।

অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, ‘গঠনমূলক সমালোচনা প্রয়োজন। শুধু সমালোচনার জন্য সমালোচনা নয়- এমন সমালোচনা চাই, যা দেশের সমস্যার সমাধানে সহায়ক হবে।’

অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি সংবাদসংস্থা, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদক ও শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল ও চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।