প্রকাশিত : ১২ জানুয়ারী, ২০২৬ ২২:১৪ (বৃহস্পতিবার)
সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল স্থগিত

ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিদ্যমান আর্থিক সংকটের কারণে সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল ঘোষণা করতে পারছে না অন্তর্বর্তী সরকার। তবে এই লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় পে কমিশন তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশনা পেয়েছে। নতুন পে স্কেল এখনই ঘোষণার পরিবর্তে, ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বেতন কাঠামো ও ফ্রেমওয়ার্ক প্রস্তুত করা হবে।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার পে কমিশনের দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যার সভাপতিত্ব করেন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খান। বৈঠকে কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তবে সরকারের হাতে সময় স্বল্প থাকায় এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এখনই নতুন পে স্কেল ঘোষণা করা হবে না। নির্বাচনের পর দায়িত্ব গ্রহণকারী নতুন সরকারই তা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেবে।

পে কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে বেতনের অনুপাত নিয়ে তিনটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়েছে- ১:৮, ১:১০ ও ১:১২। এর মধ্যে ১:৮ অনুপাত চূড়ান্ত করা হয়েছে, অর্থাৎ সর্বনিম্ন গ্রেডের কর্মচারীর বেতন ধরা হলে সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন হবে তার আট গুণ। সর্বনিম্ন বেতনের জন্য তিনটি প্রস্তাব আসে- ২১ হাজার, ১৭ হাজার ও ১৬ হাজার টাকা।

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কমিশনকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। দেশের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতি বিবেচনা করে একটি সময়োপযোগী বেতন কাঠামো তৈরি করা হবে। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের কারণে ঘোষণাটি সম্ভবপর নয়; তবে নতুন সরকার তা বাস্তবায়ন করবে।’

কমিশন সূত্র জানায়, প্রতিবেদনে কেবল বেতন বৃদ্ধি নয়, বরং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য, পরিবারের সদস্য সংখ্যা, আবাসন ও শিক্ষা ব্যয়কে প্রধান সূচক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এই পূর্ণাঙ্গ ফ্রেমওয়ার্কই ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য বেতন কাঠামো নির্ধারণের মূল রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।

উল্লেখ্য, জাতীয় পে কমিশন ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই গঠিত হয়। কমিশনের দায়িত্ব হলো সরকারি কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পর্যালোচনা করে সুপারিশ প্রদান করা। কমিশনের মেয়াদ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা, যা জাতীয় নির্বাচনের আগেই প্রায় সমাপ্ত হবে।