প্রকাশিত : ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬ ১৮:৫৪ (বৃহস্পতিবার)
নবীগঞ্জে কাতার প্রবাসীর ভবন দখলচেষ্টায় হামলা

ছবি: সংগৃহীত

নবীগঞ্জ উপজেলায় কাতার প্রবাসীর নির্মাণাধীন বহুতল ভবন ও জমি দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে প্রবাসীর আত্মীয়-স্বজনের ওপর হামলার ঘটনায় নবীগঞ্জ পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিনসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নবীগঞ্জ থানায় মামলাটি রুজু করা হয়। এর আগে গত ৮ জানুয়ারি নবীগঞ্জ উপজেলার বুরুঙ্গা (পাঠলি) গ্রামের বাসিন্দা ও কাতার প্রবাসী এমদাদুর রহমানের বড় ভাই ছাদিকুর রহমান থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বিবাদী শাহ শানজানা আক্তার সেপী কাতার প্রবাসী এমদাদুর রহমানের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী। প্রবাসে থাকার সুযোগে তিনি স্বামীর টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করেন এবং নবীগঞ্জ পৌর এলাকার গন্ধা গ্রামের জুবায়ের আহম্মেদের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি এলাকায় প্রকাশ পেলে এমদাদুর রহমান তাকে তালাক দেন। তালাকের পর থেকে সেপী ও তার সহযোগীরা বাদী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করে আসছেন বলে অভিযোগ করা হয়। এর মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা একটি মামলা আদালত সরাসরি খারিজ করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, গত ৬ জানুয়ারি হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা নং-৯৮৭ দায়ের করেন পূর্ব তিমিরপুর গ্রামের তাজ উদ্দিন তালুকদার। মামলায় উল্লেখ করা হয়, নবীগঞ্জ উপজেলার হালিতলা মৌজার একটি জমি কাতার প্রবাসী এমদাদুর রহমান বৈধভাবে ক্রয় করেন, যেখানে তার নির্মাণাধীন তিনতলা ভবন রয়েছে। ভবন নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছেন তার তালতো ভাই তাজ উদ্দিন তালুকদার।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রবাসে থাকার সুযোগে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী শাহ শানজানা আক্তার সেপীর পক্ষ নিয়ে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নবীগঞ্জ পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন, যুবলীগ নেতা জুবায়ের আহম্মেদসহ তাদের সহযোগীরা নির্মাণাধীন ভবন ও জমি দখলের পায়তারা চালিয়ে আসছিলেন। এ সময় তাজ উদ্দিন তালুকদার একাধিকবার হামলার শিকার হন।

পরবর্তীতে জমি ও ভবন রক্ষার স্বার্থে আদালতে রিসিভার নিয়োগের আবেদন করলে আদালত নবীগঞ্জ থানার ওসিকে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) এসআই মতিউর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশের উপস্থিতিতেই বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাজ উদ্দিন তালুকদার ও তার লোকজনের ওপর হামলা চালায়।

হামলায় অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হন। আহতদের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক রক্তাক্ত মঈনউদ্দিন ওরফে আশরাফুল ইসলামকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। অন্য আহতরা হলেন- সইদুর রহমান, তাজ উদ্দিন তালুকদার, সাদিকুর রহমান ও কোহিনুর মিয়া।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।