প্রকাশিত : ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬ ১৯:০২ (বৃহস্পতিবার)
সালমান শাহ হত্যা মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন ২২ ফেব্রুয়ারি

ছবি: সালমান শাহ

প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহ (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন)কে পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে তার স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত ছিল। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় বিচারক আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি নতুন তারিখ ধার্য করেন।

এর আগে, গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন- সালমান শাহের স্ত্রী সামীরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ (১৭)। এছাড়াও মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহের মৃত্যুর পর রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘদিন পর গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের করা রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে অপমৃত্যু মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তিনি তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ও তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহসহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে।

বাসায় ফিরে তারা দেখতে পান, সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সালমানের স্ত্রী সামীরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন। সালমানের মা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করলে পথিমধ্যে তারা তার গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান।

পরবর্তীতে সালমান শাহকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, তিনি অনেক আগেই মারা গেছেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, সালমান শাহের পিতা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি অপমৃত্যু মামলাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে রুজু এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান।

সালমান শাহের পিতার মৃত্যুর পর তার মামা মোহাম্মদ আলমগীর বাদী হিসেবে মামলাটি পরিচালনা করছেন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

এজাহারে দাবি করা হয়েছে, নামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামিরা পরস্পরের সঙ্গে যোগসাজশে পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন।