ছবি: সংগৃহীত
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (শাকসু) নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রার্থীদের তিন শর্ত মেনে অঙ্গীকারনামা দিতে হবে বলে জানিয়েছেন সহ-উপাচার্য মো. সাজেদুল করিম। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাত পৌনে নয়টার দিকে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
তবে এই তিন শর্ত প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। সোমবার জাতীয় নির্বাচনের আগে শাকসু নির্বাচন আয়োজন না করার বিষয়ে ইসির প্রজ্ঞাপনের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন।
সহ-উপাচার্য জানান, প্রার্থীদের তিনটি শর্ত মেনে অঙ্গীকারনামা সই করে নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিতে হবে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেটি ইসিতে পাঠাবে এবং বার্তা আসলে নির্বাচন আয়োজন করা হবে। তিন শর্ত হলো- নির্বাচনকালে কোনো ধরনের সহিংসতা ঘটবে না, নির্বাচনের আগে ও পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো অবনতি হবে না এবং এই নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনে কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলবে না।
কোষাধ্যক্ষ মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রার্থীদের কমিটমেন্টের মাধ্যমে প্রশাসন নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করবে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করবে। এতে ইসির কোনো আপত্তি থাকবে না।’
তবে ছাত্ররা প্রার্থীদের সঙ্গে শর্ত মেনে অঙ্গীকারনামা দেয়ার বিষয়টি অযৌক্তিক উল্লেখ করে। ভিপি প্রার্থী মুহয়ী শারদ বলেন, ‘নিরাপত্তার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব না ফেলার প্রতিশ্রুতি আমরা কীভাবে দেব? এটি হাস্যকর।’
শিবির সমর্থিত জিএস প্রার্থী মুজাহিদুল ইসলাম জানান, প্রার্থীরা স্মারকলিপি দেবে, অঙ্গীকারনামা নয়। স্মারকলিপি প্রশাসনের কাছে বুধবার বেলা ১১টায় জমা দেওয়া হবে।
অন্যদিকে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল) শাবিপ্রবি চ্যাপ্টার নির্বাচনের নির্ধারিত সময়ে আয়োজনের দাবি জানিয়ে ইসির প্রজ্ঞাপনকে ‘অসংলগ্ন, তড়িঘড়ি প্রকাশিত ও পক্ষপাতমূলক’ বলে অভিহিত করেছে। সংবাদ সম্মেলনে আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সদস্যসচিব মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে শাকসুর তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। এতে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হেনেছে।’
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে প্রার্থী ও সমর্থকেরা বিক্ষোভে অংশ নেন। রাত ১১টায় বৈঠক চলছিল এবং একদল শিক্ষার্থী অবস্থান করেছিলেন।