ছবি: ইমজা নিউজ
দীর্ঘ ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনে ২৮ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেল। ইশতেহারে শিক্ষার্থীদের অধিকার, নিরাপত্তা, আবাসন, শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার ঘোষণা করেন প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী দেলোয়ার হোসেন শিশির ও জিএস পদপ্রার্থী মুজাহিদুল ইসলাম। এ সময় প্যানেলের অন্যান্য প্রার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।
ইশতেহারের ২৮ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো- ক্যাম্পাসে জুলাই কর্নার স্থাপন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জড়িতদের বিচার নিশ্চিতকরণ, অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারে শাকসু অন্তর্ভুক্ত, শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ এবং অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা, সাশ্রয়ী মূল্যে স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা, নিরাপদ ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য সংরক্ষণ, আজাদী আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রাখা।
এছাড়া ইশতেহারে গবেষণা কার্যক্রম সমৃদ্ধকরণ, দক্ষতা ও ক্যারিয়ার উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও সফট স্কিল বৃদ্ধি, উচ্চশিক্ষা মেন্টরিং ব্যবস্থা চালু, আন্তর্জাতিক সংযোগ জোরদার এবং বৈশ্বিক শিক্ষা নিশ্চিতে উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। টিউশন অ্যাপ চালু ও বৃত্তি কার্যক্রম গ্রহণের কথাও এতে উল্লেখ রয়েছে।
ইশতেহারে আরও বলা হয়, নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কঠোর আইনগত পদক্ষেপ, স্মার্ট সলিউশন ও প্রযুক্তিগত সুবিধা বৃদ্ধি, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গঠন এবং দুর্নীতিমুক্ত ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা করা হবে।
নারীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস ও মর্যাদাপূর্ণ ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ, পরিবেশবান্ধব ও সবুজ ক্যাম্পাস গঠনে সমন্বিত উদ্যোগ, আইনি সেবা ও মানবাধিকার সুরক্ষা, মেডিক্যাল সেন্টারের আধুনিকায়ন ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও ইশতেহারে স্থান পায়।
এছাড়া র্যাগিং ও হয়রানিমুক্ত শিক্ষাঙ্গন নিশ্চিত করা, ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় প্রতিরোধমূলক নিরাপত্তা সেল গঠন, মাতৃত্বকালীন ছুটির বিধান কার্যকর, মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সাহিত্য-সংস্কৃতি ও খেলাধুলার পরিসর বাড়ানোর অঙ্গীকার করা হয়।