প্রকাশিত : ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬ ২০:৫৮ (রবিবার)
সুনামগঞ্জ-৫: আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন জাহাঙ্গীর আলম

ছবি: মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম

সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) সংসদীয় আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম আপিলের মাধ্যমে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে তার দাখিল করা আপিল আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

দীর্ঘ শুনানি, নথিপত্র পর্যালোচনা এবং ব্যাখ্যা গ্রহণের পর নির্বাচন কমিশন (ইসি) তার মনোনয়নপত্রকে বৈধ ঘোষণা করে।

এর আগে গত ৩ জানুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাইকালে ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত নথির বিভ্রান্তি ও সরকারি খাজনা বিষয়ক জটিলতার কারণে জাহাঙ্গীর আলমের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়। এ সিদ্ধান্তে তিনি বিএনপি, জাপা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে কার্যত প্রতিযোগিতার বাইরে চলে যান। তবে মনোনয়ন বাতিলের দু’দিন পরই- ৫ জানুয়ারি তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল আবেদন করেন। আপিল শুনানিতে কমিশন সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র, ব্যাখ্যা ও প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে জানায়, মনোনয়ন বাতিলের কারণগুলো আইনি পরীক্ষায় টেকসই নয়। ফলে তার মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।

শুনানি শেষে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আলহাজ্ব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, `মনোনয়ন যাচাই–বাছাইয়ের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে স্বাক্ষর সংক্রান্ত একটি ভুল ও নথি সংক্রান্ত কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। আমরা দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ায় বিষয়টি ব্যাখ্যা করি। আল্লাহর রহমতে এবং নির্বাচন কমিশনের যথাযথ সিদ্ধান্তে আমি প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছি। এখন আমার প্রধান লক্ষ্য-সবাইকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও শক্তিশালী নির্বাচনী প্রচার এগিয়ে নেওয়া।'

দলীয় সূত্র জানায়, প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ছাতক দোয়ারাবাজারে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। বৃহস্পতিবার বিকfল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানের নেতা–কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনন্দন বার্তা দিতে শুরু করেন। তাদের দাবি, এই সিদ্ধান্ত মাঠের কর্মীদের প্রাণচাঞ্চল্য বাড়িয়েছে এবং নির্বাচনী ঘরানায় জাতীয় পার্টির অবস্থান আরও দৃঢ় করবে।

স্থানীয় নেতারা জানান, জাহাঙ্গীর আলমের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে বর্তমান নির্বাচনী জমজমাট পরিস্থিতিতে জাপার সক্রিয় অংশগ্রহণ হুমকির মুখে পড়েছিল। ফলে আপিলে বৈধতা ফিরে পাওয়ায় তাঁকে ঘিরে নতুন উচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার সকাল থেকেই ছাতকের তার বাসায় বিপুল সংখ্যক নেতা–কর্মীর সমাগম ঘটে। দুই উপজেলার শত শত সমর্থক ফুলের তোড়া, ব্যানার, পোস্টার নিয়ে তাকে অভিনন্দন জানাতে আসেন।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারাও জাহাঙ্গীর আলমকে অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। তারা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ন্যায়নিষ্ঠ সিদ্ধান্ত দিয়ে একটি ভুল সংশোধনের সুযোগ তৈরি করেছে। এতে নির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক পরিবেশ আরও স্বচ্ছ ও স্বাস্থ্যকর হবে।’

অন্যদিকে সুনামগঞ্জ-৫ আসনে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্রসহ একাধিক প্রার্থী প্রতিদিন জনসংযোগ, সভা–সমাবেশ, পথসভা ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বিএনপির সাবেক তিনবারের এমপি কলিম উদ্দিন মিলন আসন পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। আওয়ামী লীগ না থাকায় এই আসনে বহু দিকের প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাহাঙ্গীর আলমের প্রত্যাবর্তন নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে আওয়ামীবিহীন নিবাচনী পরিবেশে তিন বড় রাজনৈতিক দলের সক্রিয়তা এলাকায় একটি ত্রিমুখী বা বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ছাতক-দোয়ারাবাজার অঞ্চলের ভোটাররা বলছেন, একজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ–অবৈধ হওয়া সরাসরি মাঠের উৎসাহ, প্রচারণার গতি এবং ভোটের হিসাব–নিকাশে প্রভাব ফেলে। তাই আপিলের রায়ে জাহাঙ্গীর আলমের ফেরত আসার বিষয়টি পুরো নির্বাচনী মাঠকে নতুন করে প্রাণবন্ত করেছে।

সব মিলিয়ে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া সুনামগঞ্জ–৫ আসনের নির্বাচনী অঙ্কে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষক, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ ভোটাররা।