ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের অর্থনীতি চাঙা হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের কারণে সরকারি খরচের পাশাপাশি প্রার্থী, রাজনৈতিক দলের সমর্থক এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের কারণে বাজারে নগদ অর্থের প্রবাহ বেড়েছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, নির্বাচনি মাসে এই অর্থের বড় অংশ অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় হওয়ায় মূল্যস্ফীতির হার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক মহাপরিচালক ড. মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, ‘নির্বাচনের সময়ে প্রার্থীরা প্রচারণা, সমর্থক ও আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে অর্থ খরচ করেন। প্রবাসীরা পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে বাড়তি রেমিট্যান্স পাঠান। এতে খণ্ডকালীন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং টাকার একটি অংশ অন্যান্য খাতে খরচ হয়, যা সাময়িকভাবে প্রান্তিক অর্থনীতিকে চাঙা করে।’ তবে তিনি সতর্ক করেন, অনুৎপাদনশীল খাতে বেশি খরচের কারণে বাজারে চাহিদা বাড়ে এবং পণ্যের দাম বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির হার বৃদ্ধি পায়।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের পর সরকার কাঠামোগত সংস্কার অব্যাহত রাখলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে, বিনিয়োগ ও সরকারি ব্যয় বাড়বে এবং শিল্প খাত চাঙা হবে।
এবারের নির্বাচনে আচরণবিধি কঠোর হওয়ায় পোস্টার, ব্যানার ও শোভাযাত্রার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। তবুও প্রার্থী, রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের খরচ চলমান রয়েছে। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে নির্বাচন কমিশনের জন্য ২ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিক ও আড়াই হাজার কোটি টাকা নির্বাচনে খরচ করার সুযোগ রয়েছে। প্রার্থী প্রতিটি আসনে ভোটারপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ টাকা বা নির্ধারিত সর্বাধিক সীমার মধ্যে খরচ করতে পারবেন।
প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সও নির্বাচনি খরচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জানুয়ারির প্রথম ১১ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৩৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮১ শতাংশ বেশি। এর ফলে ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকা সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানুয়ারি মাসে ৭০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স কিনেছে এবং বাজারে ৮ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা ছাড়া হয়েছে। নির্বাচনের কারণে টাকার এ চাহিদা ও সরবরাহ বৃদ্ধির প্রভাব বাজারে মূল্যস্ফীতির হার বাড়াতে পারে। অক্টোবর-ডিসেম্বর পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি ৮.১৭ থেকে ৮.৪৯ শতাংশে পৌঁছেছে। নির্বাচনের মাসে এই হার আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংক্ষেপে, নির্বাচনের তৎপরতা দেশের অর্থনীতিকে সাময়িকভাবে চাঙা করেছে, কিন্তু অনুৎপাদনশীল খাতে খরচ বৃদ্ধি ও নগদ অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।