প্রকাশিত : ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬ ২১:১৮ (মঙ্গলবার)
ইরানে শাসন পরিবর্তনের আহ্বান ট্রাম্পের

ছবি:ডোনাল্ড ট্রাম্প

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশব্যাপী চলা বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এখন ইরানে নতুন নেতৃত্ব খোঁজার সময় এসেছে।’

ট্রাম্পের মন্তব্যের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এর আগে শনিবারই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘উসকানিদাতাদের’ উৎসাহিত করার অভিযোগ আনেন। তিনি ট্রাম্পকে একজন ‘অপরাধী’ আখ্যায়িত করে বলেন, ‘ইরানি জনগণের প্রাণহানি, ক্ষয়ক্ষতি ও তাদের ওপর অপবাদের জন্য তিনিই দায়ী।’ খামেনি জানান, প্রধান উসকানিদাতাদের আটক করা হয়েছে এবং বিক্ষোভ অনেকটাই থিতিয়ে এসেছে।

ট্রাম্প খামেনির তীব্র সমালোচনা করে তাঁকে ‘অসুস্থ ব্যক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, ‘তার উচিত দেশ সঠিকভাবে পরিচালনা করা এবং মানুষ হত্যা বন্ধ করা। দুর্বল নেতৃত্বের কারণে ইরান এখন বিশ্বের সবচেয়ে বসবাসের অযোগ্য স্থানে পরিণত হয়েছে।’

দেশব্যাপী বিক্ষোভ শুরুর পর ইরানে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ট্রাম্প ইরানিদের ‘প্রতিষ্ঠানগুলো দখল’ করার ও বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তবে শুক্রবার তার সুর কিছুটা ভিন্ন হয়। তিনি ইরানে ৮০০ জনের ফাঁসি বাতিলের সিদ্ধান্তকে ‘দারুণ’ সম্মান জানান। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ-এর তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে অন্তত ৩ হাজার ৯০ জন নিহত এবং ২২ হাজার ১২৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।

এদিকে আয়াতুল্লাহ খামেনি প্রথমবারের মতো সরকারিভাবে স্বীকার করেছেন যে বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা মোকাবিলায় অতিরিক্ত সেনা ও সরঞ্জাম পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে রয়েছে ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ, অতিরিক্ত বিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ইরানে সামরিক হামলার সম্ভাবনা বিবেচনায় মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি থেকে গুরুত্বপূর্ণ কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া শুরু করা হয়েছে।