মৌলভীবাজারের জুড়ীতে শিশু সন্তানসহ এক নারীর আত্মহত্যার ঘটনায় তার স্বামীকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
র্যাব-৯ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী থানার জাঙ্গালিয়া এলাকার বাসিন্দা মরিয়ম আক্তার (২৪)। ২০২০ সালে তার সঙ্গে একই এলাকার আজিজুর রহমানের ছেলে কুতুব উদ্দিন (৩১)-এর বিয়ে হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ চলছিল। ভিকটিমের পরিবারের দাবি, বিভিন্ন সময় তিনি বাবার বাড়িতে যেতে চাইলে স্বামী তাকে সংসার ছেড়ে চলে যেতে বলেন। এমনকি ২০২৩ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি ভিকটিমের মা মারা গেলেও তাকে মায়ের জানাজা ও দাফনে যেতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার দিন ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর দুপুরের দিকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই সময় স্বামী ভিকটিমকে আত্মহত্যার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পরে সেদিন সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য সায়েদুর রহমান মোবাইল ফোনে ভিকটিমের বাবাকে জানান, মরিয়ম আক্তার ও তার চার বছর বয়সী ছেলে আয়ান মোহাম্মদ তোহা নিজ বাড়িতে মারা গেছে। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা রান্নাঘরের ভেতরে মা ও শিশুকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা পারিবারিক কলহ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে জুড়ী থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পর থেকে র্যাব-৯ ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
র্যাব জানায়, এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সদর কোম্পানি, সিলেট এবং সিপিসি-২, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজারের একটি যৌথ আভিযানিক দল গত ১৮ জানুয়ারি রাতে এসএমপি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানাধীন কদমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার একমাত্র পলাতক আসামি কুতুব উদ্দিন (৩১)-কে আটক করে। তিনি মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী থানার উত্তর বড়ডহর এলাকার বাসিন্দা।
র্যাব জানায়, আটক ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।