প্রকাশিত : ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬ ২১:০১ (বুধবার)
শাকসু নির্বাচন স্থগিতে সিলেট জামায়াতের নিন্দা ও প্রতিবাদ

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ২৮ বছর পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ-শাকসু নির্বাচন স্থগিতের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াত নেতৃবৃন্দ।

সোমবার (১৯ জানুয়ারী) সন্ধ্যায় সিলেট মহানগর জামায়াতের প্রচার বিভাগ থেকে প্রেরিত এক বিবৃতিতে শাকসু নির্বাচন স্থগিতের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, মহানগর নায়েবে আমীর ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, জেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক আব্দুল হান্নান ও হাফিজ আনওয়ার হোসাইন খান, মহানগর সেক্রেটারী মোহাম্মদ শাহজাহান আলী ও জেলা সেক্রেটারী মো: জয়নাল আবেদীন।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘২০২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পতিত ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান হয়েছে। দেশের ছাত্র-জনতা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্নে বিভোর। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার আগেই দেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সফল অন্তর্বর্তীকালিন সরকার ও রাষ্ট্রযন্ত্র একটি দলকে ক্ষমতায় বসানোর রূপরেখা বাস্তবায়নের ষড়যন্ত্র করছে। যা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ-শাকসু নির্বাচন স্থগিত করতে একটি দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে অব্যাহত চাপের মুখে ২ বার তারিখ পেছানো হয়েছে। এরপরও ছাত্র সমাজের তীব্র আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ২০ জানুয়ারী নির্বাচনের তারিখ ধার্য্য করে। কিন্তু দেশের শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদের ধারাবাহিক বিজয় দেখে একটি গোষ্ঠী আতঙ্কিত হয়ে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র চালিয়ে যায়। সর্বশেষ সোমবার একটি ছাত্র সংগঠনের মব সন্ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে সর্বোচ্চ আদালতকে ব্যবহার করে ভোটগ্রহণের আগের দিন শাকসু নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ছাত্রদের অধিকারকে চরমভাবে ক্ষুন্ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এই অন্যায্য সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ছাত্র সমাজ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে।’

তারা বলেন, ‘ভোটের আগের দিন শাকসু নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত পতিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শাকসু নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। সেখানে শেষ মুহুর্তে এসে নির্বাচন স্থগিত করার মাধ্যমে ছাত্র সমাজের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে আইনী বাধা সম্পন্ন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ছাত্রদের অধিকার শাকসু নির্বাচন আয়োজনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের প্রতি জোর দাবী জানাচ্ছি।’