প্রকাশিত : ২০ জানুয়ারী, ২০২৬ ১২:১১ (সোমবার)
সিলেটে ভোটের আগে আ*গ্নে*য়া*স্ত্রে*র ছড়াছড়ি, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট জেলায় অবৈধ অস্ত্র ও এয়ারগান উদ্ধারের ধারাবাহিক ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট ও বিশেষ অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র, এয়ারগান এবং বিস্ফোরক সামগ্রী উদ্ধার হওয়ার তথ্য জানিয়েছে পুলিশ ও র‌্যাব। এসব ঘটনায় নাশকতার আশঙ্কার কথা বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এয়ারগান সরাসরি প্রাণঘাতি না হলেও এগুলো পরিবর্তনের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ আগ্নেয়াস্ত্রে রূপ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

পুলিশ জানায়, সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ভোরে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের জৈন্তাপুর এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশির সময় একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল থামানোর সংকেত দেওয়া হয়। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা ফেলে পালিয়ে যায়। পরে বস্তা তল্লাশি করে পুলিশ ভারতীয় চারটি ক্যামো রঙের নতুন এয়ারগান ও ছয়টি কালো রঙের নতুন এয়ারগান উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে একটি পুরাতন সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় জৈন্তাপুর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

র‌্যাব জানায়, রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে চিকনাগুল এলাকার একটি চা-বাগানের ভেতরে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি এয়ারগান উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এয়ারগানগুলো নাশকতার কাজে ব্যবহার করা হতে পারে বলে র‌্যাবের ধারণা। পরে সাধারণ ডায়রির মাধ্যমে এসব এয়ারগান জৈন্তাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

র‌্যাবের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে দেশী ও বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, ম্যাগাজিন, বিস্ফোরক, ডেটোনেটর, সাউন্ড গ্রেনেড, পেট্রোল বোমা এবং বিপুল পরিমাণ এয়ারগানের গুলিসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক এয়ারগান উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাব জানায়, অধিকাংশ এয়ারগান পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

এদিকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে র‌্যাবের অভিযানে একটি গাছের নিচ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাঁচটি এয়ারগান উদ্ধার করা হয়। র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এসব এয়ারগানও নাশকতার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে সাধারণ ডায়রির মাধ্যমে এগুলো কমলগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়।

অন্যদিকে সিলেটের ওসমানীনগরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে একটি বাড়ি থেকে অবৈধ অস্ত্র, গুলি ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভোরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত ওই অভিযানে পাঁচজনকে আটক করা হয়। যৌথ বাহিনী জানায়, উদ্ধারকৃত আলামতসহ আটক ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য ওসমানীনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ ছাড়া মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সিলেট নগরীর জালালাবাদ থানাধীন একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি ভারতীয় এয়ার পিস্তল উদ্ধার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত অস্ত্রটি বিধি অনুযায়ী জব্দ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নির্বাচনের প্রাক্কালে একের পর এক এসব উদ্ধারের ঘটনায় সিলেটে অস্ত্রের উৎস ও নেপথ্যের সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এর মধ্যেই সিলেটসহ সারাদেশে লুণ্ঠিত পুলিশের অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে কার্যক্রম জোরদার করতে আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছে সরকার। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুলিশের লুণ্ঠিত বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদের সঠিক সন্ধান দিতে পারলে প্রকৃত তথ্যদাতাকে নির্ধারিত পুরস্কার প্রদান করা হবে।

বাংলাদেশ পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লুণ্ঠিত পিস্তল ও শটগান উদ্ধারে তথ্য দিলে ৫০ হাজার টাকা, চায়না রাইফেলের ক্ষেত্রে এক লাখ টাকা, এসএমজির জন্য দেড় লাখ টাকা এবং এলএমজি উদ্ধারে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতি রাউন্ড গুলির তথ্যের জন্য ৫০০ টাকা পুরস্কার নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, লুণ্ঠিত অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিষয়ে যাদের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে, তাদের নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবৈধভাবে ছড়িয়ে পড়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ দ্রুত উদ্ধারের লক্ষ্যেই এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আন্দোলন চলাকালে সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র লুণ্ঠিত হয়, যার একটি অংশ ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে।