প্রকাশিত : ২০ জানুয়ারী, ২০২৬ ১৬:৫২ (সোমবার)
সিলেট-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী লোকমান আহমদের বাড়িতে তালা!

সিলেট-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী মাওলানা লোকমান আহমদের বাড়িতে তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে তিনি যাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যেতে না পারেন, সে জন্য স্থানীয় কিছু মানুষ তার বাড়ির সামনে ও পেছনের গেটে তালা লাগিয়ে দেন বলে এলাকাবাসীর একাধিক সূত্র দাবি করেছে। এতে তিনি বাড়ির ভেতরে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। তার মোবাইল ফোনও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।

এসময় স্থানীয় কয়েকজনের সাথে আলাপকালে তারা দাবি করেন, ১০ দলীয় জোটের ভেতরে সিলেট-৩ আসনের প্রার্থী নির্ধারণ নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা মুসলেহ উদ্দীন রাজুকে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসার পর মাওলানা লোকমান আহমদ মনোনয়ন প্রত্যাহারের কথা বিবেচনা করছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে। তবে স্থানীয় কিছু মানুষ তাকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করতে চাপ দিতে বাড়িতে জড়ো হন এবং তাকে বের হতে না দেওয়ার উদ্দেশ্যে তালা দেওয়া হয় বলে এলাকাবাসীর দাবি।

দক্ষিণ সুরমাস্থ লোকমান আহমদের বাসার সামনে জড়ো হওয়া জামায়াতের একাধিক নেতাকর্মী জানান, গত রাতে জোটের পক্ষ থেকে লোকমান আহমদকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি বলে তারা দাবি করেন।

তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আসনে জোট যাকে মনোনয়ন দিয়েছে, তিনি এলাকায় জনবিচ্ছিন্ন একজন আলেম। লোকমান আহমদ ছাড়া অন্য কাউকে জোটের প্রার্থী করা হলে ওই আসনটি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করেন।

এ অবস্থায় জোটের নেওয়া সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তারা।

বিকেল সাড়ে ৪টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি বাড়িতে অবরুদ্ধ ছিলেন। আর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় বিকেল ৫টা।

এদিকে সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-বালাগঞ্জ-ফেঞ্চুগঞ্জ) আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। জামায়াত ইসলামী নেতাকর্মীদের একাংশ দাবি করছেন, এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা লোকমান আহমদই জোটের প্রার্থী। অপরদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে প্রচার করা হচ্ছে, আসনটি তাদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং মুসলেহ উদ্দীন রাজুই জোটের প্রার্থী।

গত ১৫ জানুয়ারি ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের পর জানা যায়, সিলেটের ১০টি আসনে জামায়াতের নেতারাই জোটের প্রার্থী হবেন, যার মধ্যে সিলেট-৩ আসনও রয়েছে। তবে ওই সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ উপস্থিত ছিল না এবং পরদিন দলটি জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। এতে ১১ দলীয় জোট পরিণত হয় ১০ দলীয় জোটে।

জোটে ইসলামী আন্দোলনের জন্য বরাদ্দ রাখা আসন পুনর্বণ্টন নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ায় কয়েকটি আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। এ কারণেই সিলেট-৩ আসনে প্রার্থী বদলের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ফেসবুক পেজ থেকে জানানো হয়েছে, সিলেট-৩ আসনে তাদের নেতা মুসলেহ উদ্দীন রাজুই জোটের প্রার্থী।

মাওলানা লোকমান আহমদ দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন। জামায়াতের নেতাকর্মীদের দাবি অনুযায়ী, সিলেট-৩ আসনটি তাদের জন্য তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

অন্যদিকে মুসলেহ উদ্দীন রাজু সিলেটের আলেম শায়খুল হাদিস নুরউদ্দিন আহমদ গহরপুরীর ছেলে। তিনি বালাগঞ্জের গহরপুর মাদ্রাসার সাবেক প্রিন্সিপাল এবং কওমি মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। বর্তমানে তিনি বোর্ডের একজন কর্মকর্তা। ফলে কওমি ঘরানায় তার প্রভাব ও ভোটব্যাংক রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি)। প্রতীক বরাদ্দ বুধবার এবং ২২ জানুয়ারি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।