প্রকাশিত : ২০ জানুয়ারী, ২০২৬ ১৮:৫১ (সোমবার)
সিলেট ‍ও সুনামগঞ্জে মনোনয়ন প্রত্যাহার ঠেকাতে জামায়াতের দুই প্রার্থী অবরুদ্ধ

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে সিলেট ও সুনামগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর দুই প্রার্থীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মনোনয়ন প্রত্যাহার ঠেকাতে সিলেট-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থী মাওলানা লোকমান আহমদের বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সুনামগঞ্জ-১ আসনে দলীয় কার্যালয়ে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে জেলা আমির মাওলানা তোফায়েল আহমদকে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সিলেট-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী মাওলানা লোকমান আহমদ যাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে না পারেন, সে উদ্দেশ্যে স্থানীয়রা তার বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় তিনি বাড়িতে অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন বলে জানা গেছে। তার কাছে মোবাইল ফোনও ছিল না বলে দাবি করা হয়েছে।

সূত্রগুলো জানায়, ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে সিলেট-৩ আসনে খেলাফত মজলিসের নেতা মুসলেহ উদ্দীন রাজুকে প্রার্থী দেওয়ার আলোচনা শুরু হলে লোকমান আহমদ মনোনয়ন প্রত্যাহারের কথা বিবেচনা করতে পারেন-এমন আশঙ্কা থেকেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এদিকে তার বাড়ির সামনে অবস্থান নেওয়া এলাকাবাসী ও জামায়াতের নেতা-কর্মীরা জোটের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।

অন্যদিকে সুনামগঞ্জ-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়া জেলা আমির মাওলানা তোফায়েল আহমদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দলটির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। জোটগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসনটি বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টিকে ছেড়ে দেওয়ার খবরে ক্ষুব্ধ হয়ে মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে জেলা শহরে জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে তোফায়েল আহমদকে তালাবদ্ধ করে রাখেন কর্মী-সমর্থকেরা। একই সময়ে সেখানে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকেও অবরুদ্ধ করা হয়। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত তারা সেখানে অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন।

জামায়াতের স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধর্মপাশা, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও মধ্যনগর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে তোফায়েল আহমদের পক্ষে মাঠে কাজ করে আসছিলেন নেতা-কর্মীরা। হঠাৎ করে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সম্ভাবনার খবরে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাহিরপুর উপজেলা থেকে আসা কয়েকজন নেতা-কর্মী দুপুর থেকেই দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন এবং একপর্যায়ে তালা ঝুলিয়ে দেন।

বিক্ষুব্ধ কর্মীরা জানান, প্রায় দেড় বছর ধরে তোফায়েল আহমদকে প্রার্থী ধরে প্রচারণা চালানো হয়েছে। নির্বাচনের ঠিক আগে এসে আসনটি অন্য দলকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তারা মেনে নিতে পারছেন না।

এ বিষয়ে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মোমতাজুল হাসান আবেদ বলেন, ‘আগে আসনটি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ছেড়ে দেওয়ার আলোচনা চলছিল। পরে ওই দল জোট থেকে সরে যাওয়ায় জেলা আমিরের নির্বাচন করা প্রায় নিশ্চিত ছিল। তবে মঙ্গলবার সকালে জোটগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসনটি নেজামে ইসলাম পার্টিকে ছেড়ে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।’ দলীয় সিদ্ধান্ত মানতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কর্মীদের আবেগের প্রতিও দল সম্মান প্রদর্শন করে।’

সুনামগঞ্জ-১ আসনে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির কামরুজ্জামান কামরুল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুখলেছুর রহমান।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ মঙ্গলবার। তফসিল অনুযায়ী, আগামীকাল বুধবার চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেবে নির্বাচন কমিশন।