প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারী, ২০২৬ ১৭:৪৮ (সোমবার)
ভোট গণনায় দেরি হতে পারে, নিরাপত্তায় থাকছে সেনা-ড্রোন-বডি ক্যাম: প্রেস সচিব

ছবি: শফিকুল আলম।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোট গণনায় কিছুটা দেরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা জানান।

প্রেস সচিব বলেন, ‘সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হওয়ায় এবার ভোট গণনা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দীর্ঘ হতে পারে। তবে ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

নির্বাচনের দিন তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিতে উন্নত ইন্টারনেট সেবা দিতে চারটি মোবাইল ফোন অপারেটরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, “ভোটের দিন পুলিশের কাছে থাকবে ২৫ হাজার ৫০০টি বডি অন ক্যামেরা। এসব ক্যামেরার ফুটেজ ‘নির্বাচনি সুরক্ষা’ অ্যাপে যুক্ত থাকবে, যার মাধ্যমে কুইক রেসপন্স নিশ্চিত করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, ‘ভোটের সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রধান উপদেষ্টা সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি লুট হওয়া অস্ত্র দ্রুত উদ্ধারের বিষয়েও তাগিদ দেওয়া হয়েছে।’

প্রেস সচিব জানান, নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনায় প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ভোটের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা রিটার্নিং কর্মকর্তার অধীনে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান তিনি। এ সময় দায়িত্বে থাকবেন এক লাখ সেনা সদস্য, নৌবাহিনীর পাঁচ হাজার এবং বিমান বাহিনীর সাড়ে তিন হাজার সদস্য। এ ছাড়া অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসও মাঠে থাকবে। নজরদারিতে ব্যবহার করা হবে ৫০০টি ড্রোন।

পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসন নিয়ে শঙ্কার কথা থাকলেও, ওই দুই আসনসহ দেশের সব ৩০০ আসনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেন শফিকুল আলম।

তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ১ হাজার ৮৪২ জন বৈধ প্রার্থী। নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করবেন ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার, ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রেস সচিব আরও বলেন, “‘নির্বাচনি সুরক্ষা’ নামে একটি অ্যাপের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করবেন, যা নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করবে।”