প্রকাশিত : ২৩ জানুয়ারী, ২০২৬ ২০:২৩ (মঙ্গলবার)
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচনী উত্তাপ: ধানের শীষ, ঈগল ও তালার লড়াই জমজমাট

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রবাসী অধ্যুষিত ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সুনামগঞ্জ-৩ আসনকে ঘিরে জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। বিএনপি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের তৎপরতায় জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ এলাকায় প্রতীক বরাদ্দের আগেই প্রচারণার উত্তাপ ছড়িয়েছে। কে জিতবে-ধানের শীষ, ঈগল নাকি তালা- তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা।

জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-৩ আসনটি জেলার অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। শ্রমজীবী মানুষ, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস বেশি এ অঞ্চলে। দীর্ঘদিন ধরে বন্যা, জলাবদ্ধতা, ভাঙা সড়ক, মাদক ও মশার উপদ্রব এখানকার প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত।

এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির তিনবারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য কয়ছর এম আহমদ। প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তিনি।

তফসিল ঘোষণার আগেই নিয়মিত সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন কয়ছর এম আহমদ। দোয়া মাহফিল, মতবিনিময় সভা ও গণসংযোগের মাধ্যমে তিনি এলাকার মানুষের সমস্যা শুনছেন এবং সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, এই আসনে বিএনপির ভোটব্যাংক শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

কয়ছর এম আহমদ বলেন, `সুনামগঞ্জ-৩ আসনের মানুষ শান্তি ও নিরাপদ জীবন চায়। রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার, জলাবদ্ধতা ও বন্যা নিরসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন আমার অগ্রাধিকার। বিএনপির রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার আলোকে এ এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চাই।'

আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) থেকে ঈগল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন সৈয়দ তালহা আলম। পেশায় ব্যবসায়ী হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। স্থানীয় সূত্র বলছে, দলীয় অবস্থানের পাশাপাশি ব্যক্তি হিসেবে এই আসনে তাঁর সাংগঠনিক ভিত্তি তুলনামূলকভাবে শক্ত।

সৈয়দ তালহা আলম বলেন, `শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুর-দুই উপজেলার প্রতিটি এলাকা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার কাছ থেকেই ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি। মানুষ পরিবর্তন চায় এবং এবার ঈগলের পক্ষে ভোট দিতে আগ্রহী।'

বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন তালা প্রতীক নিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি বলেন, `মানুষ ধান, নৌকা ও লাঙ্গলের রাজনীতি দেখেছে। এবার তারা বিকল্প চায়। ইনসাফভিত্তিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যাশায় তালা প্রতীকের প্রতি জনসমর্থন বাড়ছে।'

নির্বাচিত হলে মাদক, গ্যাস সংকট, মশা ও জলাবদ্ধতার মতো সমস্যা নিরসনে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

অন্যদিকে জামায়াত-সমর্থিত ১০ দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকে নির্বাচনে লড়ছেন সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহীনূর পাশা চৌধুরী। তিনি বর্তমানে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির।

শাহীনূর পাশা চৌধুরী বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের দোসর নই, বরং তাদের শাসনামলে জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। তরুণ ভোটাররাই এবার নির্বাচনের সমীকরণ বদলে দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭২৮ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৭০ হাজার ৯২১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন।

এবার সুনামগঞ্জ-৩ আসনে মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে ২২ জানুয়ারি থেকে।

স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, তারা সৎ, যোগ্য ও কর্মক্ষম জনপ্রতিনিধি চান। দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে যিনি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে পারবেন, তাকেই ভোট দেওয়ার কথা ভাবছেন তারা।

এখন দেখার বিষয়- শেষ পর্যন্ত সুনামগঞ্জ-৩ আসনে ভোটারদের মন জয় করতে পারে কে-ধানের শীষ, ঈগল না কি তালা।