প্রকাশিত : ২৩ জানুয়ারী, ২০২৬ ২১:১৫ (রবিবার)
সিলেটের জৈন্তাপুরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে বিজিবির ওপর হামলা, গুলিবিদ্ধসহ আহত ৩

ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় বিজিবি টহল দলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিজিবির এক সদস্যসহ তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাত পৌনে ১১টার দিকে নিজপাট ইউনিয়নের গৌরীশঙ্কর কমলাবাড়ি এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ হেয়েছেন, জশপুর গৌরীশঙ্কর গ্রামের মো. আতিক আহমেদ (২০)। অপর আহতরা হলেন- মো. রায়হান মিয়া (২৮) ও বিজিবি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম (৪৩)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সকালে টিপরাখলা ঘুড়িমারা এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পিলার ১২৮৮ থেকে আনুমানিক ১৫০ গজ ভেতরে ছয়টি চোরাচালানের গরু জব্দ করে বিজিবি। এ সময় চোরাকারবারিরা বিজিবির ওপর হামলা চালায়।

পরবর্তী রাতে বিজিবির একটি টহল দল টিপরাখলা–গৌরীশঙ্কর এলাকায় গেলে স্থানীয়দের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। স্থানীয় মসজিদের মাইকে ‘বিজিবি স্থানীয়দের ওপর হামলা চালাচ্ছে’ ঘোষণা দেওয়া হয়। বিজিবি টহল দল হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়।

আহত বিজিবি সদস্যকে প্রথমে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মনসুর আলম বলেন, ‘মসজিদ থেকে দেওয়া ঘোষণায় জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে একটি পরিবার অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। মূলত তারাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে।’

যশপুর গৌরীশঙ্কর বায়তুল আমান জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি আবদুল মালিক বলেন, ‘আমি অসুস্থ ছিলাম। রাতে বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলাম। দুই যুবক ভয় দেখিয়ে মাইকে ঘোষণা দেন। জুমার নামাজের পর থানা কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করেছি। দোষীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি।’

জৈন্তাপুর থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘সংঘর্ষে বিজিবির একজন সদস্য ও স্থানীয় দুইজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন গুলিবিদ্ধ। এখনও পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। পরিস্থিতি এখন শান্ত।’

বিজিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, টহল দলের ওপর হামলায় দেশি অস্ত্র, লাঠি ও বাঁশ ব্যবহার করা হয়। বিজিবি সদস্যদের সতর্কবার্তার পরও হামলাকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়নি। প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।