প্রকাশিত : ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬ ২০:৪৯ (সোমবার)
মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের ভাতা বাড়ল

ছবি: সংগৃহীত

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক ভাতা পাঁচ হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতার হার ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ৩২তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমদ।

সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত কমিটির কার্যপরিধিভুক্ত মোট ১৫টি কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ও ভাতার হার চূড়ান্ত করা হয়।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক ভাতা পাঁচ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের মাসিক সম্মানি ভাতা এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ভিজিএফ কার্যক্রমকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন করে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৪ জন জেলেকে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ১৫ লাখ জেলেকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বয়স্ক ভাতা কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা এক লাখ বৃদ্ধি করে ৬২ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার বয়স্ক ব্যক্তি মাসিক ৬৫০ টাকার পরিবর্তে ৭০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন এবং ৯০ বছর ঊর্ধ্ব ২ লাখ ৫ হাজার ব্যক্তি মাসিক ১ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা কার্যক্রমে মোট ২৯ লাখ উপকারভোগীর মধ্যে ২৮ লাখ ৭৫ হাজার জন মাসিক ৭০০ টাকা হারে এবং ৯০ বছর ঊর্ধ্ব ২৫ হাজার জন মাসিক ১ হাজার টাকা হারে ভাতা পাবেন।

প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রমে ৩৬ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মধ্যে ৩৫ লাখ ৮১ হাজার ৯০০ জন মাসিক ৯০০ টাকা হারে এবং ১৮ হাজার ১০০ জন মাসিক ১ হাজার টাকা হারে ভাতা পাবেন। চলতি অর্থবছরে ৩৪ লাখ ৫০ হাজার প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এই সুবিধা পাচ্ছেন।

প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বৃত্তির মাসিক হার ৫০ টাকা বাড়িয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে ৯৫০ টাকা, মাধ্যমিকে ১ হাজার টাকা, উচ্চমাধ্যমিকে ১ হাজার ১০০ টাকা এবং উচ্চতর পর্যায়ে ১ হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা ৭ হাজার বাড়িয়ে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩৮৯ জনে উন্নীত করা হয়েছে। এ কর্মসূচিতে মাসিক ভাতার হার ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে।

অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও মেধাবৃত্তির উপকারভোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ১৯৮ জন বাড়িয়ে মোট ৪৫ হাজার ৩৩৮ জন করা হয়েছে। তাদের মাসিক বৃত্তির হার প্রাথমিক পর্যায়ে ৭০০ টাকা, মাধ্যমিকে ৮০০ টাকা, উচ্চমাধ্যমিকে ১ হাজার টাকা এবং উচ্চতর পর্যায়ে ১ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫ হাজার ৪৯০ জনকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ৫ হাজার বাড়িয়ে ৬৫ হাজার জনে উন্নীত করা হয়েছে। এককালীন চিকিৎসা সহায়তার পরিমাণ ৫০ হাজার টাকার পরিবর্তে দ্বিগুণ করে ১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজার বাড়িয়ে ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ জনে উন্নীত করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় একজন মা মাসিক ৮৫০ টাকা করে ভাতা পাবেন।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে সুবিধাভোগী পরিবারের সংখ্যা ৫ লাখ বাড়িয়ে ৬০ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতি পরিবার কেজিতে ১৫ টাকা দরে মাসে ৩০ কেজি করে মোট ৬ মাস খাদ্য সহায়তা পাবে।