ছবি: সংগৃহীত
দেশের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাদাপাথর রোপওয়ে (বাংকার) ও ধলাই নদী থেকে পাথর লুটপাট ঠেকাতে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে রাসেল মিয়া গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জানা গেছে, পাথর লুটপাট প্রতিরোধে সিলেট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১৩ জন স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ দেওয়া হয়। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে তাঁরা রাত ও দিন সাদাপাথর ও ধলাই নদী এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে পাথর লুটপাটকারীদের হামলার পর পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীদের তাৎক্ষণিক অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করা হয়।
রোববার রাসেলের বাবা আলী হোসেন বাদী হয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম খান জানান, ‘ধলাই নদীতে পাথর লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের দেখা মাত্রই গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে পাথর লুটপাটের এলাকায় কেউ প্রবেশ করলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।’
এদিকে, হামলার প্রতিবাদে প্রশাসন, পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, ফটোগ্রাফার ও নৌকার মাঝিরা সোচ্চার হয়েছেন।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় সাদাপাথর পর্যটন ঘাটে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘কেবল ১৩ জন স্বেচ্ছাসেবী দিয়ে কয়েকশো দুষ্কৃতিকারীর মোকাবিলা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না দিলে এমন ঘটনা ঘটবে। দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।’
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্র দেশ-বিদেশে সুপরিচিত। কিছু দুষ্কৃতিকারীর কারণে এর সুনাম নষ্ট হতে দেওয়া হবে না। দোষীরা যত বড়ই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এখন থেকে সার্বক্ষণিক অভিযান চলবে।’
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন- কোম্পানীগঞ্জ ফটোগ্রাফি সোসাইটির সভাপতি আনোয়ার সুমন, সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ, ফটোগ্রাফি ক্লাবের সভাপতি আকবর রেদওয়ান মনা, সাবেক সভাপতি ফারুক আহমদ, নৌকা মাঝি সমিতির সভাপতি আইনুল হক, ফটোগ্রাফার মিন্নত মিয়া, আফজল হোসেনসহ আরও অনেকে।
বক্তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং পর্যটন এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানান।