প্রকাশিত : ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ২০:৫১ (বুধবার)
জরুরি বৈঠকে বসছে আইসিসি, শাস্তির মুখে পাকিস্তান

ছবি: সংগৃহীত

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগে বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পাকিস্তানের এমন সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও সুপার এবং ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির বরাতে জানা গেছে, এ ইস্যুতে আইসিসি আজ একটি ভার্চ্যুয়াল জরুরি বোর্ড মিটিং ডেকেছে। সেখানে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্তের কারণে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, আইসিসির বৈঠকে পাকিস্তানকে বড় অঙ্কের জরিমানা কিংবা টুর্নামেন্ট থেকে নিষিদ্ধ করার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত আসতে পারে। ভারতের আরেক সংবাদমাধ্যম নিউজ ১৮ জানিয়েছে, এই বৈঠক আগামীকাল অথবা বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে পারে।

ভারতীয় দৈনিক জাগরণ লিখেছে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে জানায়নি পিসিবি। তবে পাকিস্তানের একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে আজই আইসিসিকে ই-মেইলের মাধ্যমে অবহিত করার কথা রয়েছে পিসিবির।

সূত্র মতে, পাকিস্তানকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত আসতে পারে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর নেতৃত্বাধীন বোর্ড থেকে। উল্লেখ্য, জয় শাহ ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পুত্র।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গতকাল রাতে পাকিস্তান সরকারের একটি পোস্টে বলা হয়, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র পাকিস্তান সরকার পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে ২০২৬ আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনুমোদন দিচ্ছে। তবে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে পাকিস্তান ক্রিকেট দল অংশ নেবে না।’

আইসিসি জানিয়েছে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার বিষয়ে তারা এখনো পিসিবির আনুষ্ঠানিক চিঠির অপেক্ষায় রয়েছে।

তবে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় আইসিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘কোনো দল যদি বেছে বেছে নির্দিষ্ট কিছু ম্যাচে অংশ নেয়, তাহলে তা টুর্নামেন্টের মূল চেতনা ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে। আইসিসি সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলেও পাকিস্তান সরকারের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেট এবং কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর জন্য হতাশাজনক।’

আইসিসি একই সঙ্গে পিসিবিকে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।

জিও সুপারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যেসব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, তার মধ্যে রয়েছে- বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা, ভবিষ্যতের আইসিসি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা, অন্যান্য শীর্ষ ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ সীমিত করা, পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বিদেশি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে বিধিনিষেধ, এবং সম্প্রচারকারী সংস্থা ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের ক্ষতির ক্ষতিপূরণ পিসিবির কাছ থেকে আদায়।

এ বিষয়ে আইসিসি আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাতে জরুরি বৈঠকের ফলাফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

বিশ্বকাপ শুরুর মুখে এমন উত্তেজনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত শুধু পাকিস্তান নয়, পুরো টুর্নামেন্টের ভাবমূর্তিকেই প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।