প্রকাশিত : ০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ২২:১৬ (বুধবার)
‘চিকেন নেকের’ মাটির নিচে রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা ভারতের

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের পাশের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুঁড়ি করিডরে মাটির নিচ দিয়ে রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা করছে ভারত। ‘চিকেন নেক’ নামে পরিচিত এই করিডরটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থল যোগাযোগ পথ।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ভারতের কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণ এ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন।

রেল মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ নিয়ে আয়োজিত এক ভিডিও কনফারেন্সে তিনি বলেন, ‘উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত করা ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ করিডর নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা হলো মাটির নিচে রেললাইন স্থাপন করা এবং বিদ্যমান লাইনগুলো চার লাইনে উন্নীত করা।’

ভারতের নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের (এনএফআর) জেনারেল ম্যানেজার চেতন কুমার শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, মাটির নিচের রেললাইনটি পশ্চিমবঙ্গের রাঙ্গাপানি স্টেশন থেকে তিন মিল হাট পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে। তিনি বলেন, ‘ভূগর্ভস্থ রেললাইন নিরাপত্তার দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে সহায়ক হবে।’

শিলিগুঁড়ি করিডর বা চিকেন নেক ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। এই সরু করিডরের সঙ্গে বাংলাদেশের পাশাপাশি নেপাল ও ভুটানের সীমান্ত রয়েছে।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই করিডর নিয়ে ভারতের উদ্বেগ বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার পর নয়াদিল্লির দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।

২০১৭ সালে দোকলাম সংকটের সময় ভারতের সামরিক পরিকল্পনাবিদরা শিলিগুঁড়ি করিডরের দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাদের মতে, এই করিডরে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে মূল ভারতের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।

ভারতের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সেনা ও রসদ পরিবহনেও এই করিডর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য সংকট বা সংঘাতের সময় যাতে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন না ঘটে, সে লক্ষ্যেই ভারত শিলিগুঁড়ি করিডরে মাটির নিচে রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে।

এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে করিডরটির নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ ব্যবস্থা আগের চেয়ে বেশি সুরক্ষিত ও টেকসই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।