প্রকাশিত : ০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ২০:৫৭ (শুক্রবার)
২৬ দফা অগ্রাধিকার ও ৪১ ভিশন নিয়ে জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ঘোষিত ইশতেহারে সরকার গঠন করলে ২৬টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে দলটি। পাশাপাশি ইশতেহারে ৪১টি ভিশন তুলে ধরা হয়েছে।

ইশতেহারে রাষ্ট্র পরিচালনায় যুবকদের প্রাধান্য, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ গঠন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জামায়াতের ঘোষিত অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ২৬ দফার মধ্যে রয়েছে- স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপসহীন রাষ্ট্র গঠন, বৈষম্যহীন ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা, যুবকদের ক্ষমতায়ন, নারীদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত নিরাপদ রাষ্ট্র গঠন, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠা এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট সমাজ গড়ে তোলা।

ইশতেহারে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রযুক্তি, কৃষি ও শিল্প খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সরকারি চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও বৈষম্য দূরীকরণ, ব্যাংক ও আর্থিক খাতে সংস্কার, বিনিয়োগবান্ধব অর্থনীতি গঠন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া সমানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন ব্যবস্থা চালু, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতকরণ এবং কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।

মানবাধিকার প্রসঙ্গে দলটি জানিয়েছে, অতীতে সংঘটিত খুন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।

কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, ২০৩০ সালের মধ্যে ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ দূষণ ও বর্জ্য শূন্যের লক্ষ্যে ‘তিন শূন্য ভিশন’ বাস্তবায়ন, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার কথা ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ, সংখ্যালঘু ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ও পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা, স্বল্পমূল্যে আবাসন, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা চালুর অঙ্গীকার করা হয়েছে।

ইশতেহারের শেষ অংশে বলা হয়, সকল পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ কল্যাণরাষ্ট্র গঠনই জামায়াতে ইসলামীর মূল লক্ষ্য।