প্রকাশিত : ০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১৯:৪৯ (রবিবার)
অন্তিম সময়ে নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টায় লিপ্ত একটি গোষ্ঠী: আরিফুল হক চৌধুরী

ছবি: ইমজা নিউজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জমিয়ত ঐক্যজোট মনোনীত সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক মেয়র জননেতা আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, ‘একটি বিশেষ গোষ্ঠী অন্তিম সময়ে এসে আসন্ন নির্বাচন বানচালের গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে তারা নানামুখী অপতৎপরতা চালাচ্ছে। এই ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। জনগণ যখন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে, ঠিক তখনই পরাজিত শক্তিরা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার দিবাস্বপ্ন দেখছে। তারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু সিলেটের সচেতন জনতা অতীতেও যেমন সকল ষড়যন্ত্র নসাৎ করেছেন, এবারও  রাজপথে থেকে তার দাঁতভাঙা জবাব দেবে সিলেটের জনগণ।’

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারী) জৈন্তাপুর উপজেলায় বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলো বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘দেশনায়ক তারেক রহমান ঘোষিত এই ৩১ দফা কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, আধুনিক ও সমৃদ্ধ, উন্নত বাংলাদেশ গড়ার পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা। ৩১ দফার এই বার্তা দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। সাধারণ মানুষকে বোঝাতে হবে যে, রাষ্ট্র সংস্কার ছাড়া স্থায়ী মুক্তি সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘ভোটের নামে জান্নাতের টিকেট বিক্রিকারীদের থেকে  সাবধান থাকতে হবে। ভোটের জন্য একটি গোষ্ঠী সহজ-সরল মা-বোনদের ধোকা দিচ্ছে। ইসলামের নামে বিভ্রান্ত করে তাদেরকে ভোট দিতে ওয়াদাবদ্ধ করছে যা কোনভাবে কাম্য নয়। তাদের থেকে সবাইকে সচেতন-সজাগ থাকতে হবে।’

আরিফুল হক চৌধুরী নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘যেকোন মূল্যে আমরা নির্বাচনের সুন্দর পরিবেশ, শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখব। কোন চক্রান্তে পা দিবেন না। সিলেটে আলাদা একটা সৌহার্দপূর্ণ সম্প্রতি আছে, মুসলিম, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সকল ধর্মের মানুষ আমরা একসাথে বসবাস করে আসছি। সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সহাবস্থান এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা আমার- আপনাদের নৈতিক দায়িত্ব।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি সরকার ক্ষমতায় গেলে, আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী দ্রুত সময়ের মধ্যে পাথর কোয়ারি খুলে দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করব। বিশেষ করে, জৈন্তাপুরের ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষনে, পর্যটন এলাকার সৌন্দর্যময় করতে টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, বিদ্যুৎ, চিকিৎসা ব্যবস্থার দ্রুত উন্নয়নের চেষ্টা করব। আমি নির্বাচিত হলে এক বছরের মধ্যে জৈন্তাপুর উপজেলায় পরিবর্তনের দৃশ্য দেখতে পাবেন।’

ইরাদেবী মিলনায়তনে নির্বাচনি জনসভায় জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশীদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো: আব্দুল হাফিজের পরিচালনায় প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব হুমায়ুন কবির।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশে-এর কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মোহাম্মদ আলী, সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নিজাম উদ্দিন লস্কর, সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইশতেয়াক আহমদ সিদ্দিকী, সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত সাদেক, সিলেট মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি সৈয়দ মঈন উদ্দিন সুহেল।

আরও উপস্থিত ছিলেন, সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আব্দুস শুকুর, এবিএম জাকারিয়া, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-এর জৈন্তাপুর উপজেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল জব্বার, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহিবুল্লাহ, মাওলানা আবু হানিফ, মাওলানা আহমদ আলী, তাঁতীদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-আহবায়ক ফয়েজ আহমদ দৌলত, জৈন্তাপুর উপজেলার সাবেক সভাপতি আব্দুল মতিন, জৈন্তাপুর উপজেলার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মামুন রশীদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইন্তাজ আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহিবুল হক মুহিব, দরবস্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহার, সিলেট জেলা বিএনপির তাঁতী-বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মালেক, সিলেট জেলা তাঁতীদলের সদস্য সচিব আলতাফ হোসেন বিলাল, চারিকাটা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হেলাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক হাজিফ জালাল আহমদ, ১নং নিজপাট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস শুকুর, ২নং জৈন্তাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল আহাদ, সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন, চারিকাটা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আলম চৌধুরী তোফায়েল, জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব আল মামুন প্রমুখ।

এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।