ছবি: সংগৃহীত
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-১ সংসদীয় আসনটি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ আসনের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিএনপি, জোটভুক্ত দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এতে নির্বাচনী মাঠে ছড়িয়ে পড়েছে চরম উত্তাপ।
নির্বাচনী ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৮৮ সালে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের প্রার্থী আব্দুল মোছাব্বির এবং ১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টির খলিলুর রহমান চৌধুরী রফি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির শেখ সুজাত মিয়া জয় লাভ করেন। একই বছরের জুন নির্বাচন, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দেওয়ান ফরিদ গাজী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০১০ সালে দেওয়ান ফরিদ গাজীর মৃত্যুর পর ২০১১ সালের উপ-নির্বাচনে বিএনপির শেখ সুজাত মিয়া পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টির এম. এ. মুনিম চৌধুরী, ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের গাজী মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী বিজয়ী হন।
বর্তমানে আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত হলেও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব শেখ সুজাত মিয়া সক্রিয়ভাবে ভোটের মাঠে রয়েছেন। অন্য দলের প্রার্থীদের তৎপরতা তুলনামূলকভাবে কম দেখা যাচ্ছে।
প্রবাসী অধ্যুষিত নবীগঞ্জ-বাহুবল আসনে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন মরহুম অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার পুত্র ড. রেজা কিবরিয়া। তিনি দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে দিন-রাত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। গত ৭ ফেব্রুয়ারি দিনারপুর পরগনা খ্যাত চারটি ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভা থেকে তাকে প্রকাশ্য সমর্থন দেওয়া হয়। ওই এলাকায় প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার ভোটার রয়েছেন, যা তার জন্য বড় প্লাস পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘বিএনপি আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে বলেই আমি আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি। আমি বড় নেতা হতে নয়, বরং নবীগঞ্জ-বাহুবলের মানুষের একজন সেবক হয়ে উন্নয়নের কাজ করতে চাই। ইনশাআল্লাহ ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করে আমার বাবার অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করার সুযোগ দিন।’
১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম মিরপুরীও নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মাঠ পর্যায়ে গণসংযোগ চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ পরিবর্তন চায়, ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ চায়। আমি ঘরে ঘরে গিয়ে জনগণের প্রত্যাশার কথা শুনছি। ইনশাআল্লাহ জনগণ আমাকে রিকশা মার্কায় নির্বাচিত করলে নবীগঞ্জ-বাহুবলের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করব এবং সব ধরনের বরাদ্দ জনগণের সামনে প্রকাশ করব।’
অপরদিকে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব শেখ সুজাত মিয়াও ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে নবীগঞ্জ-বাহুবলের মানুষের সঙ্গে কাজ করেছি। দলের ক্রান্তিকালে কর্মীদের পাশে থেকেছি। ২০১১ সালের উপ-নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীকে পরাজিত করেছি। ইনশাআল্লাহ আগামী নির্বাচনে নবীগঞ্জ-বাহুবলের জনগণ ঘোড়া মার্কায় এ আসন উপহার দেবেন।’
সব মিলিয়ে হবিগঞ্জ-১ আসনে এবার ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তবে শেষ পর্যন্ত জনগণ কাকে বেছে নেবে, তা জানতে ১২ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।