প্রকাশিত : ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ২০:১৭ (বুধবার)
ভয়কে পেছনে রেখে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

ছবি: প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ভয়কে পেছনে রেখে সাহসকে সামনে এনে ভোটকেন্দ্রে যান। একটি ভোট শুধু সরকার নির্বাচন করবে না, এটি ১৭ বছরের নীরবতার জবাব দেবে, বাধাহীন ফ্যাসিবাদের জবাব দেবে এবং জাতিকে নতুনভাবে গঠিত করবে। একই সঙ্গে প্রমাণ করবে-এই দেশ তার তরুণ, নারী ও সংগ্রামী জনতার কণ্ঠ আর কখনো হারাতে দেবে না।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর গণভোট উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আজ আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি এক অতি তাৎপর্যপূর্ণ, ঐতিহাসিক ও ভবিষ্যৎ-নির্ধারক মুহূর্তে। আর মাত্র একদিন পরই সারাদেশে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট। এটি জাতির বহু বছরের আকাঙ্ক্ষার দিন।’

মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, যাদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে এবং স্বৈরাচারবিরোধী দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের পর দেশ আজ আবার গণতান্ত্রিক উত্তরণের যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি বলেন, ‘আপামর জনগণের- বিশেষ করে জুলাইয়ের যোদ্ধাদের- আত্মত্যাগ ছাড়া এই নির্বাচন ও গণভোট কোনোটিই সম্ভব হতো না। সমগ্র জাতি তাদের কাছে চিরঋণী।’

তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক জাতির জীবনে এমন কিছু দিন আসে, যার তাৎপর্য সুদূরপ্রসারী। যেদিন রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা, গণতন্ত্রের চরিত্র এবং আগামী প্রজন্মের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। আগামী পরশু ঠিক তেমনই একটি দিন। সেদিন নতুন সরকার গঠনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং একই সঙ্গে গণভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে এবং এখন জনগণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়। রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত নাগরিক হিসেবে জাতির সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা ভাগ করে নেওয়াকে তিনি তার নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, এবারের নির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক পরিবেশ পূর্ববর্তী যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে শান্তিপূর্ণ হয়েছে। মত ও আদর্শের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দলগুলো সংযম দেখিয়েছে, প্রার্থীরা দায়িত্বশীল আচরণ করেছেন এবং সাধারণ মানুষ সচেতন থেকেছেন।

এ জন্য তিনি দেশের সব রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, ভোটার, নির্বাচন কমিশন, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।

তবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যেও কিছু সহিংস ঘটনার কারণে প্রাণহানির বিষয়টি গভীর বেদনার বলে উল্লেখ করেন তিনি। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘গণতন্ত্রের চর্চায় কোনো প্রাণ ঝরে যাওয়া কোনো সভ্য রাষ্ট্রের জন্যই গ্রহণযোগ্য নয়। এই সহিংসতা জাতীয় বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে।’

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বাধিক। স্বতন্ত্রসহ মোট প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজারেরও বেশি, যা আগের যেকোনো জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় বেশি।

তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচন শুধু আরেকটি নিয়মিত নির্বাচন নয়। এটি একটি গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, বৈষম্য, বঞ্চনা ও অবিচারের বিরুদ্ধে জনগণের যে জাগরণ দেখা গেছে, এই নির্বাচন তার সাংবিধানিক প্রকাশ।’

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, রাজপথের সেই দাবি এবার ব্যালটের মাধ্যমে উচ্চারিত হবে। তাই এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

তিনি শান্তিপূর্ণ, নির্ভীক ও দায়িত্বশীলভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।